আবু সাঈদ হত্যা: রিমান্ড শেষ হওয়ার আগেই দুই পুলিশ সদস্য কারাগারে

রংপুর প্রতিনিধি 
১২ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ২২:৩২আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ২২:৩২

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে নিহত রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলায় বরখাস্ত দুই পুলিশ সদস্যকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। রিমান্ড শেষ হওয়ার একদিন আগেই বৃহস্পতিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকালে তাদের আদালতে তোলা হলে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন রংপুর চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক আসাদুজ্জামান।

এই দুই পুলিশ সদস্য হলেন তাজহাট থানার সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন ও কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়। গত মঙ্গলবার সকালে রংপুর চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক আসাদুজ্জামান তাদের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। রিমান্ড শেষ হওয়ার কথা ছিল শুক্রবার। বৃহস্পতিবার বিকালে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাদের আদালতে আনে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। বিচারক আসাদুজ্জামানের কাছে পিবিআই রিমান্ডের প্রতিবেদন উপস্থাপন করে। নতুন করে পিবিআই রিমান্ড আবেদন না করায় আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

তবে রিমান্ডের সময় শেষ হওয়ার আগেই আসামিদের আদালতে তোলা, পুলিশ কর্মকর্তারা আসামি হলেও স্বপদে বহাল থাকা, নতুন করে কোনও আসামি গ্রেফতার না হওয়া, নতুন করে রিমান্ড না চাওয়ায় পিবিআইয়ের তদন্ত নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবীরা। সেইসঙ্গে সঠিক বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।

আদালত সূত্র জানায়, শুনানি শুরু হলে মামলার তদন্তকারী পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার জাকির হোসেন আদালতে লিখিতভাবে জানান আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে অনেক তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের একজন অসুস্থ হয়ে পড়ায় চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী আপাতত রিমান্ডে রাখার প্রয়োজন নেই মর্মে কারাগারে পাঠানোর আবেদন জানাচ্ছি। পরে আবেদন গ্রহণ তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক।

কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক পৃথিশ কুমার সরকার বলেন, ‘রিমান্ড শেষে আবু সাঈদ হত্যা মামলার দুই আসামিকে আদালতে তোলা হয়েছিল। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার পক্ষে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। তাদের একজন অসুস্থ হওয়ায় কারাগারে পাঠানোর আবেদন করা হয়েছিল। আদালত সেই প্রতিবেদন দেখে আসামিদের কারাগারে পাঠিয়েছেন। সন্ধায় তাদের রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।’

বাদীপক্ষের আইনজীবী রায়হানুজ্জামান রায়হান বলেন, ‘আদালতে আসামিদের উপস্থাপনের দিনে এএসআই আমির আলী ও কনস্টেবল সুজন চন্দ্র আদালতে স্বীকারোক্তি দিতে চেয়েছিলেন। পিবিআই সে সময় আদালতের কাছে তাদের পাঁচ দিন রিমান্ড আবেদন করলে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তদন্তকারী সংস্থা রিমান্ডের তৃতীয় দিনে আসামিদের আদালতে উপস্থাপন করেছে এবং বলেছেন আসামিরা অসুস্থ। আদালতে আসামিরা কোনও স্বীকারোক্তি দেননি। আমাদের সন্দেহ হচ্ছে তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্তে অবহেলা ও খামখেয়ালি করছেন কিনা। সেইসঙ্গে সঠিক বিচার নিয়ে সন্দেহ হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই মামলার আসামি সবাই পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। মামলা ফাইলের দিনে আদালত নির্দেশনা দিয়েছিল, মামলার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত পুলিশের সব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে উপযুক্ত বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নিতে হবে। কিন্তু এখনও স্বপদে বহাল থাকায় তারা মামলাকে প্রভাবিত করতে পারে। রবিবারের মধ্যে তদন্তকারী সংস্থা পুনরায় রিমান্ড না চাইলে আমরা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার পরিবর্তন চাইবো।’

বাদীপক্ষের আরেক আইনজীবী শামীম আল মামুন বলেন, ‘দুই আসামি যাদের নির্দেশে গুলি চালিয়েছেন, তাদের পেছনে পুলিশের কোন কোন কর্মকর্তা ছিল তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতকে বলেছেন তারা রিমান্ডে আসামিদের দেওয়া তথ্য মিলিয়ে দেখছেন। প্রয়োজন হলে পরবর্তীতে রিমান্ড চাইবেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা মামলা করার পর আদালত বলেছিলেন পুলিশের যেসব ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এই ঘটনায় জড়িত আছেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য। কিন্তু এখন পর্যন্ত ডিসি মারুফ, সহকারী কমিশনার আরিফ হোসেন, আল ইমরান এবং ওসি রবিউলের বিরুদ্ধে কোনও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আজ পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। অবিলম্বে মামলার সব আসামিকে গ্রেফতার করার দাবি জানাই।’

রংপুরের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে গত ১৮ আগস্ট ১৭ জনকে আসামি করে মামলার আবেদন করেন নিহত আবু সাঈদের বড় ভাই রমজান আলী। আদালতের নির্দেশে তাজহাট থানা মামলাটি এজাহার হিসেবে নেয় পরের দিন ১৯ আগস্ট।

মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, রংপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বে কোটা সংস্কার আন্দোলনে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ ছিলেন অন্যতম সমন্বয়ক। গত ১৬ জুলাই আবু সাঈদ নিরস্ত্র ও একা থাকা সত্ত্বেও এবং দৃশ্যত পুলিশের জন্য কোনও হুমকি না হওয়া সত্ত্বেও শটগান দিয়ে নির্মম ও নৃশংসভাবে গুলি করা হয়। আবু সাঈদ পড়ে গিয়ে একাধিকবার দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে নৃশংসভাবে গুলি করে।

আবু সাঈদ হত্যা মামলার অন্য আসামিরা হলেন পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, রংপুর রেঞ্জের সাবেক উপপুলিশ মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আবদুল বাতেন, রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. মনিরুজ্জামান, রংপুর মহানগর উপপুলিশ কমিশনার আল মারুফ হোসেন, সহকারী কমিশনার মো. আরিফুজ্জামান, আল ইমরান হোসেন, তাজহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বিভূতিভূষণ রায়, এএসআই আমির আলী ও কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়।

/এএম/
সম্পর্কিত
কারামুক্ত স্বামীকে জড়িয়ে কাঁদলেন স্ত্রী, আবার ধরে নিয়ে গেলো ডিবি পুলিশ
মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের মামলাজট নিরসনের উদ্যোগ জোরদারের দাবি মন্ত্রীর
ইকরার মৃত্যু: জামিন পেলেন অভিনেতা জাহের আলভীর মা
সর্বশেষ খবর
হবিগঞ্জে নারীর মুখে এসিড নিক্ষেপ, আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় প্রেরণ
হবিগঞ্জে নারীর মুখে এসিড নিক্ষেপ, আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় প্রেরণ
বগুড়ায় দই বিক্রি করে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা গুনলেন ব্যবসায়ী 
বগুড়ায় দই বিক্রি করে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা গুনলেন ব্যবসায়ী 
৩৮ বছর বাড়ি ফিরে বিপদে জবেদ, স্ত্রী বললেন স্বামী হিসেবে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়
৩৮ বছর বাড়ি ফিরে বিপদে জবেদ, স্ত্রী বললেন স্বামী হিসেবে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়
বিপর্যয়ের মুখে সুন্দরবন
বিপর্যয়ের মুখে সুন্দরবন
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
আপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি
সংবাদ সম্মেলনে ইউএনও মুনমুন নাহার আশাআপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি