টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে বান্দরবানের থানচি উপজেলার দুর্গম থুইসাপাড়া এলাকায় আটকা পড়া চার পর্যটককে ৪৮ ঘণ্টাব্যাপী চ্যালেঞ্জিং অভিযানে নিরাপদে উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
রবিবার (১২ জুলাই) বিজিবি জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে পর্যটকদের নিরাপদে থানচিতে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
বিজিবি জানায়, গত ৪ জুলাই অমিয়াখুম ভ্রমণের উদ্দেশ্যে চার পর্যটক থুইসাপাড়ায় যান। পরে ৭ জুলাই থেকে টানা বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও বৈরী আবহাওয়ায় নদীপথ অচল হয়ে পড়ায় তারা সেখানে আটকা পড়েন।
খবর পাওয়ার পর বলিপাড়া ব্যাটালিয়নের (৩৮ বিজিবি) জিন্নাপাড়া ক্যাম্প থেকে একটি দল দ্রুত থুইসাপাড়ায় পৌঁছে পর্যটকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। স্থানীয় কারবারির সহায়তায় তাদের নিরাপদ আবাসন, খাবার ও প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়। একই সঙ্গে বিজিবি ক্যাম্পের তত্ত্বাবধানে তাদের সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়। তবে নদীপথ সম্পূর্ণ অচল থাকায় তখন তাদের সরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি।
এরপর ১১ জুলাই উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। বিজিবির সদস্যরা চার পর্যটককে নিয়ে থুইসাপাড়া–জিন্নাপাড়া–হালিরামপাড়া–নিকোলাসপাড়া হয়ে দুর্গম পাহাড়ি পথ ও ঝিরি অতিক্রম করে অংসাউপাড়ায় পৌঁছান। সেখানে রাতযাপনের ব্যবস্থা করা হয়। পাহাড়ধস, ঝিরিতে পানির উচ্চতা বৃদ্ধি, প্রবল স্রোত ও দিনভর বৃষ্টির কারণে ওই দিন সীমান্ত সড়ক পর্যন্ত পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
রবিবার সকালে অংসাউপাড়া ক্যাম্প থেকে বিজিবির আরেকটি দল পর্যটকদের নিয়ে প্রায় চার ঘণ্টা দুর্গম পাহাড়ি পথ পায়ে হেঁটে নেপিউপাড়া বিওপিতে পৌঁছায়। পরে বিজিবির গাড়িতে করে তাদের নিরাপদে থানচিতে ফিরিয়ে আনা হয়।
উদ্ধার হওয়া চার পর্যটক হলেন—ঢাকার সূত্রাপুরের মো. মারুফ উদ্দিন, আবু হুরায়রা জাদিম ও তামিম রায়হান সৌরভ এবং শ্যামপুরের মাহাদি আল মাহবুব। তামিম রায়হান সৌরভ নটর ডেম কলেজের শিক্ষার্থী। অন্য তিনজন এসএসসি পাস করে কলেজে ভর্তির অপেক্ষায় রয়েছেন।
উদ্ধার হওয়া পর্যটকরা জানান, থুইসাপাড়ায় আটকা পড়ার পর থেকেই বিজিবি তাদের নিরাপত্তা, থাকা-খাওয়া ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করেছে। পরে অত্যন্ত দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়ে নিরাপদে উদ্ধার করে থানচিতে ফিরিয়ে আনে। বিজিবির পেশাদারিত্ব, সাহসিকতা ও মানবিক ভূমিকার প্রশংসা করে উদ্ধর অভিযানে অংশ নেওয়া সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তারা।









