কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদের পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। সোমবার (১৩ জুলাই) সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দুধকুমার নদের পানি জেলার পাটেশ্বরী পয়েন্টে ২৩ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। এ অবস্থায় আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় কুড়িগ্রামসহ রংপুর বিভাগের চার জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যার পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে নদী তীরবর্তী বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে পাউবো। এক্ষেত্রে নিকটবর্তী বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র এবং উঁচু স্থানযুক্ত ঘরবাড়ি নিরাপদ আশ্রয় হতে পারে। একই সাথে বাড়িতে থাকা গরু-ছাগল ও হাঁস মুরগি ছাউনিযুক্ত উঁচু স্থানে বেঁধে রাখার পরামর্শ দিয়েছে প্রাণিসম্পদ বিভাগ।
সোমবার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের দেওয়া তথ্যে দেখা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ধরলা, তিস্তা, দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে তিস্তা নদীর পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়ে সন্ধ্যা ৬টায় রংপুরের কাউনিয়া পয়েন্টে সতর্কসীমায় পৌঁছে বিপদসীমার ৪১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। দিনভর অন্য সব নদীর পানির উচ্চতাও বৃদ্ধি পেয়েছে। দুধকুমার নদের পানির উচ্চতা ভূরুঙ্গামারীর পাটেশ্বরী পয়েন্টে দিনভর ২৩ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে সন্ধ্যা ৬টায় বিপদসীমার ৭৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
একই সময়ে ধরলা ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানির উচ্চতা সবকটি পয়েন্টে বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সব নদীর পানি উচ্চতা বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
দুপুরে বন্যার পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, আবহাওয়া সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগে এবং তৎসংলগ্ন উজানে ভারতের মেঘালয়, আসাম ও পশ্চিমবঙ্গে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী ও রংপুর জেলার তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়ে কিছু কিছু স্থানে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। এ সময় নদীগুলোর নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। পরবর্তী ৭২ ঘণ্টায় পানি কমতে পারে।
নাগেশ্বরী উপজেলার রায়গঞ্জ ইউনিয়নের দুধকুমার নদ তীরবর্তী ফান্দেরচর গ্রামের বাসিন্দা জামিউল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সোমবার দুপুরের পর থাইকা খুব জোরে পানি বাড়ছে। সারাদিন এক হাত বাড়ছে। নদীর কাচার সই হইছে (তীর সমান উচ্চতায় আসছে)। এমন করি বাড়লে মাইনষের বাড়িঘরে পানি ঢুকবে।’
পাউবোর কুড়িগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘জেলার নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার পূর্বাভাস রয়েছে। আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাধের যেসব স্থান দুর্বল আছে সেগুলো মেরামতে আমাদের কাজ চলমান রয়েছে।’









