প্রশস্ত হচ্ছে কুড়িগ্রামের শাপলা চত্বর, যানজট দূর ক‌রে হবে আইক‌নিক পয়েন্ট

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
০৭ আগস্ট ২০২৬, ২০:০৩আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০২৬, ২০:০৩

অবশেষে দীর্ঘ ভোগা‌ন্তির অবসান হ‌তে চলছে। কুড়িগ্রাম শহরের যানজট নিরসনে প্রশস্ত হচ্ছে শাপলা চত্বর। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে জেলা শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার সংলগ্ন শাপলা চত্বরের পূর্ব প্রান্তের বর্ধিত অংশের প্রায় ১৫ ফুট স্থান নি‌য়ে চত্বর‌টি প্রশস্ত-করণ কাজ শুরু করেছে সড়ক বিভাগ ও পৌর প্রশাসন। 

এদিকে শাপলা চত্বর প্রশস্তকরণের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পশ্চিম প্রান্ত দি‌য়ে এক‌টি বাইপাস সড়ক নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। এটি বাস্তবায়ন হলে শাপলা চত্বর জেলা শহরের এক‌টি আইক‌নিক (দৃষ্টিনন্দন) পয়েন্টে পরিণত হবে বলে জানিয়েছে সড়ক বিভাগ।

স্থানীয়রা বলছেন, শহরের যানজট নিরসনে এই উদ্যোগ অত্যন্ত ফলপ্রসূ হ‌তে পা‌রে। তবে একই সঙ্গে ওই স্থানের সড়কের পাশে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন নাগরিকরা।

এদিকে শাপলা চত্বর সম্প্রসারণ‌কে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের ‘সম্মানহানী’ দাবি ক‌রে অপপ্রচারে নেমেছে এক‌টি চক্র। এমন অপপ্রচারের নিন্দা জানিয়েছেন শহীদ মিনার প্রতিষ্ঠাকালীন সংগঠক ও সংস্কৃতি কর্মীরা। তারা বলছেন, শহীদ মিনারের বেদী কিংবা মূল অংশের সঙ্গে বর্ধিত ওই অংশের সম্পর্ক নেই। শহীদ মিনার ও শাপলা ভাস্কর্য অবিকৃত রেখে চত্বরটি প্রশস্ত করা হচ্ছে। মূলত অংশ‌টি অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থা‌কে। এতে শহীদ মিনা‌র কিংবা শাপলা ভাস্কর্যের কোনও বিকৃতি ঘটছে না।

সড়ক বিভাগ জানায়, শহরের শাপলা চত্বরে সব সময় যানজট লেগে জন‌ভোগা‌ন্তি তৈরি হয়। এ ছাড়াও ওই অংশে টার্নিং স্পেস কম হওয়ায় ভা‌রী যানবাহন ও দূরপাল্লার বাস চলাচলে সমস্যা হয়। এই সমস্যা নিরসনে জেলা প্রশাসনের সমন্বয় সভায় সর্বসম্মতিক্রমে শাপলা চত্বরের বর্ধিত অংশ ভেঙে সড়ক প্রশস্ত করার সিদ্ধান্ত অনু‌মোদন হয়।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সড়ক বিভাগ ও পৌর কর্তৃপক্ষ স্থান‌টি প্রশস্তকর‌ণের উদ্যোগ নিয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলার রাজনৈতিক ও সংস্কৃ‌তিক ব্যক্তিব‌র্গের উপস্থিতিতে কাজ‌টি শুরু হ‌য়ে‌ছে।

পৌর কর্তৃপক্ষ জানায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা পরিষদ প্রশাসক ও জেলা বিএন‌পির সদস্য সচিব সো‌হেল হোসনাইন কায়‌কোবাদ, প্রেসক্লাব সভাপতি ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক স‌ফি খান, সাধারণ সম্পাদক মাহফুজার রহমান টিউটর, শহীদ মিনার স্থাপনকালীন সংগঠক ও সংস্কৃতি কর্মী দুলাল বোস, জ্যো‌তি আহ‌মেদ, শ্যামল ভৌ‌মিক, সাবেক পৌর মেয়র আবু বক্কর সি‌দ্দিকসহ বিএন‌পি, জামায়াত ও এন‌সি‌পির জেলা নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সর্বসম্মতিক্রমে শাপলা ফুলের পূর্ব প্রান্তের অতিরিক্ত ও অব্যবহৃত অংশের ১৫ ফুট সড়‌কে যুক্ত ক‌রে চত্বর‌টি প্রশস্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। স্থানীয় রাজনীতিবিদ ও সংস্কৃ‌তিকর্মীরাই জায়গা পরিমাপ ক‌রে চিহ্নিত ক‌রে দেন।

শহীদ মিনার প্রতিষ্ঠাকালীন সংগঠক ও সংস্কৃতি কর্মী দুলাল বোস বলেন, ‘শহীদ মিনার সংলগ্ন শাপলা ফুলের পূর্বের ওই স্থান‌টি‌ অব্যবহৃত থা‌কে। ওই স্থানে সড়ক‌টি সংকীর্ণ হওয়ায় যানচলাচল বিঘ্নিত হয়। বড় বড় গা‌ড়িগু‌লো মোড় ঘুরা‌তে হিমশিম খে‌তে হয়। সবসময় যানজট লেগে থা‌কে। দীর্ঘদিন ধ‌রে এটি প্রশস্ত করার জন্য বলা হচ্ছিল। জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এবং সাবেক পৌর মেয়র এটি প্রশস্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কিন্তু বাস্তবায়ন কর‌তে পারেননি। বর্তমান জেলা পরিষদ প্রশাসক অত্যন্ত তড়িৎকর্মা। তিনি দ্রুত সিদ্ধান্ত নি‌য়ে এটি বাস্তবায়ন করছেন। এটি শহরের যানজট নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।’ পাশাপাশি শহীদ মিনারের পশ্চিম প্রান্ত দি‌য়ে দ্রুত বাইপাস সড়ক নির্মাণের দাবি জানান এই সমাজকর্মী ও সংগঠক।

জেলা পরিষদ প্রশাসক ও জেলা বিএন‌পির সদস্য সচিব বলেন, ‘শাপলা চত্বরে যানজটের কারণে শহরে যাতায়াতে দীর্ঘদিন ধ‌রে জন‌বিড়ম্বনা চলছে। সচেতন নাগরিকদের দাবি ও পরামর্শে শাপলা চত্বরটি প্রশস্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হ‌য়ে‌ছে। জেলা সমন্বয় সভায় তা সর্বসম্মতিক্রমে অনু‌মোদন হ‌য়ে‌ছে। এটি জনদু‌র্ভোগ দূর কর‌তে সহায়তা করবে। পাশাপাশি আমরা শহীদ মিনারের পশ্চিম দিক দি‌য়ে এক‌টি বাইপাস সড়ক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সে‌টি বাস্তবায়ন হলে শহরের এই মূল প্রবেশ মুখে আর যানজট থাকবে না।’

অপপ্রচারের জবাবে জেলা পরিষদ প্রশাসক বলেন, ‘কিছু সমা‌লোচক এটিকে ভিন্নখা‌তে নেওয়ার অপচেষ্টা করছে। তারা এই সড়ক প্রশস্তকরণ‌কে শহীদ মিনারের সম্মানহানী হিসেবে অপপ্রচার করার চেষ্টা করছে। আমি এর নিন্দা জানাই। স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, শহীদ মিনার আমা‌দের ভাষা শহীদ‌দের আত্মত‌্যা‌গের প্রতীক। শাহীদ মিনার তার স্বকীয়তা নি‌য়ে থাকবে। সড়ক প্রশস্ত-করণ কাজের সঙ্গে শহীদ মিনারের বেদীসহ মূল অংশের কোনও সম্পর্ক নেই। যারা এটি‌কে ভিন্নখা‌তে নেওয়ার চেষ্টা করছেন তারা নষ্টবুদ্ধির মানুষ। তা‌দের অপপ্রচারে জেলার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড থেমে যাবে না।’

শহীদ মিনারের অলংকরণ কাজ প্রসঙ্গে জেলা পরিষদ প্রশাসক বলেন, ‘শহীদ মিনা‌র চত্বরের সৌন্দর্য বর্ধনে এর প্রাচীর সংলগ্ন স্থানে ছায়াদানকারী ও ফুলের গাছ লাগা‌নো হবে। এ ছাড়াও সোলার সিস্টেম আলোকসজ্জার কাজ করা হবে।’

সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী  মীর নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘শহরের যানজট নিরসনে শাপলা চত্বরটি প্রশস্ত-করণ জরুরি ছিল। জেলা সমন্বয় কমিটির সিদ্ধান্ত মোতা‌বেক সড়ক বিভাগ স্থান‌টি প্রশস্ত করার কাজ শুরু করেছে। স্থান‌টি জেলা শহরের এক‌টি আইক‌নিক পয়েন্ট হি‌সে‌বে গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি বাইপাস সড়ক‌টি বাস্তবায়ন হলে ওই স্থানে যানজট থাকবে না।’

/এফআর/
সম্পর্কিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ১৫ কিলোমিটার যানজট, দুর্ভোগে যাত্রীরা
উল্টো পথে আসা গাড়ির জন্য ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ২ ঘণ্টা যানজট
যানজটে আটকে সড়কে জন্ম নেওয়া সেই নবজাতক মারা গেছে
সর্বশেষ খবর
গ্লোবাল ট্যালেন্ট ভিসা: যুক্তরাজ্যে মাত্র তিন বছরে স্থায়ী হওয়ার সুযোগ
গ্লোবাল ট্যালেন্ট ভিসা: যুক্তরাজ্যে মাত্র তিন বছরে স্থায়ী হওয়ার সুযোগ
মিরপুরে বিএনপি নেতাকে গুলি, নারী পথচারীও বিদ্ধ
মিরপুরে বিএনপি নেতাকে গুলি, নারী পথচারীও বিদ্ধ
পুরো দোষই বেঙ্গল পরিবহনের, আর মারা যাওয়া সবাই ইউনিক বাসের
পুরো দোষই বেঙ্গল পরিবহনের, আর মারা যাওয়া সবাই ইউনিক বাসের
বন, পাহাড় আর লেকের দেশে একদিন
বন, পাহাড় আর লেকের দেশে একদিন
সর্বাধিক পঠিত
আওয়ামী লীগ শত্রু নয় আমাদের মিত্র, অচিরেই আমাদের সঙ্গে মিশে যাবে: বিএনপির এমপি
আওয়ামী লীগ শত্রু নয় আমাদের মিত্র, অচিরেই আমাদের সঙ্গে মিশে যাবে: বিএনপির এমপি
ডাকা হচ্ছে সংসদের বিশেষ অধিবেশন
ডাকা হচ্ছে সংসদের বিশেষ অধিবেশন
প্রথমবার ‘কাঁঠাল থেকে বিস্কুট’ তৈরি করে চমকে দিলেন ছাত্তার, যেখানে পাবেন
প্রথমবার ‘কাঁঠাল থেকে বিস্কুট’ তৈরি করে চমকে দিলেন ছাত্তার, যেখানে পাবেন
জুলাই জাদুঘরে ‘লাল টেলিফোনে’ কী শোনা যায়?
জুলাই জাদুঘরে ‘লাল টেলিফোনে’ কী শোনা যায়?
ব্যবসায়ীরা ঋণ নিচ্ছেন না, ব্যাংকেও নেই টাকা, কোথায় গেলো আমানত?
ব্যবসায়ীরা ঋণ নিচ্ছেন না, ব্যাংকেও নেই টাকা, কোথায় গেলো আমানত?