জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরকারি ডিউটি চলাকালীন হাসপাতালে রোগী ফেলে রেখে বাইরের ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগী দেখার সময় মোর্শেদুল ইসলাম নামের এক চিকিৎসা কর্মকর্তাকে ঘেরাও করেছে স্থানীয় জনতা। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে হাসপাতালের ঠিক সামনে অবস্থিত ‘দ্য পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে’ এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় ওই চিকিৎসককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিষয়টি তদন্তে কমিটি গঠনের কথা জানিয়েছেন সিভিল সার্জন। মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে হাসপাতালের সামনের দ্য পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগী দেখার সময় স্থানীয় লোকজন তাকে ঘিরে রাখেন। পরে পুলিশ ও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ঘটনাস্থলে গিয়ে মোর্শেদুল ইসলামকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দুপুর ১২টার দিকে একটি ফোন পাওয়ার পর হাসপাতালের চেম্বারে রোগী দেখা বন্ধ করে বাইরে যান মোর্শেদুল ইসলাম। তখন তার চেম্বারের সামনে অন্তত ১৫ জন রোগী অপেক্ষা করছিলেন। পরে স্থানীয় কয়েকজন তার পিছু নিয়ে পাশের দ্য পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যান। সেখানে তাকে রোগী দেখা অবস্থায় দেখতে পান তারা।
বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজন ওই চিকিৎসককে ঘিরে রাখেন। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এবং পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন।
পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারটির পরিচালক রাসেল আহম্মেদ বলেন, ‘মোর্শেদুল ইসলাম আমাদের এখানে এসেছিলেন এবং রোগী দেখেছেন। তবে তিনি কী কারণে হাসপাতালের দায়িত্বের সময় এখানে এসেছেন, সেটি তার ব্যক্তিগত বিষয়। এ নিয়ে আমাদের কোনও বক্তব্য নেই।’
তবে অপেক্ষারত রোগীদের ফেলে আসার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মোর্শেদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে ফোন পেয়ে এখানে এসেছি। হাসপাতালে ওই সময় কোনও রোগী ছিল না।’
এ বিষয়ে আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবু শফি মাহমুদ বলেন, ‘হাসপাতালে দায়িত্ব পালনকালে বাইরে গিয়ে রোগী দেখার সুযোগ নেই। এ ঘটনায় অভিযুক্ত চিকিৎসককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। সিভিল সার্জনকে ঘটনাটি জানানো হয়েছে।’
জয়পুরহাটের সিভিল সার্জন আল-মামুন বলেন, ‘এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। কমিটির প্রতিবেদনের আলোকে ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’









