এ বছর ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকরা বাম্পার ফলনের স্বপ্ন দেখছিলেন। তাদের ওই স্বপ্ন ভেঙে গেছে। বোরো ধান পাকার আগেই হঠাৎ আসা শিলাবৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে চোখের সামনে তলিয়ে গেছে ১৬০ হেক্টর জমির ধান।
কুলাউড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এম এম শাহনেওয়াজ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের শিকার বোরো চাষীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।
এমন সংকটজনক অবস্থায় ধান সংগ্রহ করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন হাওরপারের কৃষকরা। কিন্তু পর্যাপ্ত শ্রমিক না পাওয়ায় সেটিও সম্ভব হচ্ছে না।
ক’দিন আগেও যেখানে বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে বোরো ধানের সমারোহ ছিল, সেখানে এখন পানি আর পানি। ঝড় ও শিলা বৃষ্টিতে হাওর তীরের পাকা, আধা-পাকা বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। হাকালুকি হাওর তীরবর্তী ভুকশীমইল ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা পানিতে তলিয়ে যাওয়া বোরো ধান সংগ্রহ করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কেউ কোমর পানি, কেউবা বুক পানি থেকে ধান কাটছেন। কেউবা নৌকায় ধান তুলছেন, নৌকায় করে ধান নিয়ে ডাঙায় তুলছেন। ডাঙায় কৃষাণীরা ধান মাড়াইয়ে মহাব্যস্ত।
হাওরের কানিহাটি এলাকার কৃষক রহমত আলীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘পানিয়ে সব ধান নিছেগি, আওড়র বরোয়া ধান আমরার জীবিকা। অতদিনতনে (এতো দিন ধরে) নিজের বউত টেকা খরছিয়া বরোয়া ধানর লাগি কষ্ট করলাম, আর কয়দিন তাকি মেঘ (বৃষ্টি) দিয়া আওড়র সব পাকনা আধাপাকনা ধান ভাসাইলাইছে।’ কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘হায়রে কষ্ট গেল কই।’
কৃষক রহমত আলী তখন তার ৬ বছরের শিশুপুত্র রাফিকে নিয়ে হাকালুকি হাওর তীরবর্তী কানেহাত এলাকার বিল থেকে নৌকা দিয়ে সংগ্রহ করছিলেন পানিতে তলিয়ে যাওয়া আধাপাকা বোরো ধান। অনেক জমিতে কলার ভেলা দিয়ে ২-৩ ফুট পানির মধ্যে ধান কাটতে দেখা গেছে। এছাড়াও কোনও কোনও খেতের কাঁচা ধান পানিতে প্রায় ২-৩ ফুট তলিয়ে রয়েছে।
আরও পড়ুন:
ভোলার ৩৩ ইউপি চেয়ারম্যানের শপথ অনুষ্ঠিত
উপজেলার ভূকশীমইল ইউনিয়নের কানিহাটি গ্রামের কৃষক ময়না মিয়া জানান, পানিতে তলিয়ে যাওয়ার কারণে আর বাজারে ধানের দাম কম থাকায় বাইরের কোনও শ্রমিক ধান কাটতে আসতে চাইছেন না। তাই বড় বিপাকে আছেন তারা।
হাওর এলাকার কৃষক রমুজ মিয়া, আবিদ মিয়া, মন্তর আলী, পাকি মিয়াসহ কয়েকজন কৃষক বলেন, এবার গতবারের চেয়ে হাওরে বোরো ধানের বাম্পার ফলন বেশি হয়েছিল। কিন্তু বৃষ্টির পানিতে বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন কৃষকরা কিভাবে ক্ষতি পুষিয়ে নেবেন এ চিন্তায় চোখে ঘুম নেই। সবাই মরিয়া হয়ে শেষ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন যতটুকু সম্ভব ধান সংগ্রহ করার আশায়।
নবাবগঞ্জ বাজারের কৃষক আব্দুস সালাম জানান, এবছর হাওরে তিনি সাত বিঘা জমিতে বোরো ধান চাষ করেন। যার এক কাঁচি ধানও কাটতে পারেননি তিনি। সব ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে লক্ষাধিক টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি জানান।
আরও পড়ুন:
টাঙ্গাইলে জামায়াত-শিবিরের ৩ নেতাকর্মী গ্রেফতার
/এইচকে/আপ-এআর/








