হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে মাওলানা জুনেদ হাবিব ওরফে জুনেদ আহমেদ (২৫) এক বছর ধরে সস্ত্রীক নিখোঁজ রয়েছেন। তবে জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার কারণে তিনি নিখোঁজ কিনা বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ইতিপূর্বে তিনি একটি জঙ্গি প্রশিক্ষণ ক্যাম্প থেকে গ্রেফতার হয়েছিলেন। জামিন লাভের পর থেকে তিনি সস্ত্রীক নিখোঁজ রয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার দীঘলবাঁক ইউনিয়নের বনকাদিপুর গ্রামের আব্দুর রহিমের ছেলে মাওলানা জুনেদ হাবিব (জুনেদ আহমদ) এক বছর আগে হঠাৎ করে নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন। সঙ্গে নিয়ে যান নববিবাহিত স্ত্রী হাফিজা মরিয়মকে।এরপর থেকে জুনেদের পরিবার এবং শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাদের হন্যে হয়ে খুঁজছে। খোঁজ না পেয়ে গত ২২ জুলাই জুনেদের বাবা আব্দুর রহিম নবীগঞ্জ থানায় জিডি করেন।
জুনেদের বাবা আব্দুর রহিম ও মা অজুফা বিবি জানান, ‘জুনেদ স্থানীয় নুরগাঁও রুহুল উলুম কওমি মাদ্রাসা থেকে টাইটেল পাস করে। সে সবসময় একা চলাফেরা করতো। গ্রামের কারও সঙ্গে মিশতো না। কম কথা বলতো। সবাই তাকে হুজুর ডাকতো। একা একা মসজিদে বসে থাকতো। মাঝে মধ্যে কোনও হুজুর আসলে তাদের সঙ্গে মসজিদে বসে কথা বলতো।’
২০০১ সালে অপারেশন ক্লিনহার্টের সময়েও জুনেদ গ্রেফতার হয় এমন তথ্য দেন নিখোঁজের স্বজনরা।
সূত্র জানায়, নবীগঞ্জ উপজেলার দিনারপুর পাহাড়ে একদল মাদ্রাসা ছাত্রকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার সময় দেশীয় অস্ত্রসহ সেনাবাহিনী জুনেদকে গ্রেফতার করে। তিনি দীর্ঘদিন জেলহাজতে ছিলেন। মুক্তি পেয়ে তিনি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসেন। চাকরি নেন সিলেট নিরাময় পলি ক্লিনিকে। দুই বছর সেখানে চাকরি করেন। সেখানে বেতন-ভাতা নিয়ে বনিবনা না হওয়ায় বাড়ি চলে আসেন। গোপনে বিয়ে করেন মাদ্রাসা ছাত্রী হাফিজা মরিয়ম বিবিকে।
জুনেদের মা অজুফা বিবি জানান, প্রায় ১৩ মাস আগে র্যাব-৯ এর একদল সদস্য বাড়ি থেকে তাকে আটক করে নিয়ে যায়। দুইদিন র্যাব ক্যাম্পে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে বাড়িতে দিয়ে যায়। এ ঘটনার পর সে বাড়িতে বেকার বসেছিল। একদিন তার বাবা তাকে চাকরি করার কথা বললে উভয়ের কথা কাটাকাটি হয়। ওই রাতেই সে বাড়ি ছেড়ে চলে যায়। আর ফিরে আসেনি। পরে জানতে পারেন জুনেদ তার বউকেও শ্বশুরবাড়ি থেকে নিয়ে গেছে।
জানা গেছে, জুনেদ নিখোঁজ হওয়ার কিছুদিন পরেই ঢাকার একটি হত্যা মামলায় সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে তার নাম আসে। ওই সময় ডিবি পুলিশ তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে পায়নি।
কিন্তু এক বছর ধরে সন্তান নিখোঁজ থাকলেও গত ২২ জুলাই নবীগঞ্জ থানায় জিডি করেছেন জুনেদের বাবা আব্দুর রহিম। দুই বোন ও তিন ভাইয়ের মধ্যে নিখোঁজ জুনেদ সবার বড়।
জুনেদের পরিবারের লোকজন জানায়, ইতিপূর্বে জঙ্গি সন্দেহে জুনেদ একাধিকবার গ্রেফতার হয়। তার বাবা আব্দুর রহিম জুনেদের জঙ্গি সংশ্লিষ্টতা নিয়ে সন্দিহান।তিনি বলেছেন, জুনেদ যদি সত্যি জঙ্গি গোষ্ঠীর সঙ্গে জড়িয়ে যায় তাহলে তিনি আত্মহত্যা করবেন।তিনি বলেন, আমার ছেলে স্ত্রীসহ ফেরত আসবে এ আশায় অপেক্ষা করছি।
জুনেদের ভাই জাহেদ বলেন, আমার ভাই আবার ফিরে আসবে এ আশায় বসে আছি। তবে সে যদি জঙ্গি হয় তাকে ভাই হিসেবে গ্রহণ করবো না।
এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি মেম্বার খালেদ হোসেন দুলন বলেন, মাওলানা জুনেদ একাধিকবার গ্রেফতার হয়েছে। সে গ্রামের কারো সঙ্গে মিশতো না। অনেকেই বলছে সে দেশ ত্যাগ করেছে। এখন আল্লাই জানেন জুনেদ কোথায় আছে।
এ ব্যাপারে ইনাতগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই ধর্মজিত সিনহা বলেন, জুনেদ জঙ্গি সন্দেহে কয়েকবার গ্রেফতার হয়েছিল। সে স্ত্রীসহ এক বছর যাবত নিখোঁজ। আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি।
নবীগঞ্জ থানার ওসি আব্দুল বাতেন খান বলেন, আমরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি। এর আগে সে জঙ্গি হিসেবে গ্রেফতার হয়েছিল। তাই পুলিশ বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখছে।
/বিটি/টিএন/
আরও পড়ুন:
জঙ্গি ছেলের মুখ দেখতে চান না মা
চবি ও প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ পাঁচজনকে হত্যার হুমকি








