শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবি) শাখা ছাত্রলীগের ৩৬ জন নেতা-কর্মীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। গত কয়েক দিন ধরে ছাত্রলীগের হাতাহাতি ও সংঘর্ষের ঘটনায় এ নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ইশফাকুল হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ৩৬জন শিক্ষার্থীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। ছুটির পরেই ৭ থেকে ৮ কার্যদিবসের মধ্যে তাদের কারণ দর্শাতে হবে।
ছাত্রলীগ সূত্রে জানা গেছে, ওই ৩৬ জন শিক্ষার্থীর সবাই ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী।
আগামী ৪ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পূর্বঘোষিত পবিত্র ঈদের ছুটি থাকার পরও হঠাৎ আবাসিক হলগুলো বন্ধ করে দেয় শাবি প্রশাসন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনিক সূত্রে জানা যায়, ছাত্রলীগের চার কর্মীকে বহিষ্কারের সুপারিশসহ ৩৬ নেতা-কর্মীকে কারণ দর্শাতে সুপারিশ করেছে প্রক্টরিয়াল কমিটি। তাদের কেন বহিষ্কার করা হবে না, নোটিশে তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
চারজন ছাত্রলীগ কর্মী হলেন,ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষ দ্বিতীয় সেমিস্টারের লক্ষ্মণ,গণিত বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষ প্রথম সেমিস্টারের রাকিব,বাংলা বিভাগের প্রথম বর্ষ দ্বিতীয় সেমিস্টারের আজমাইন, নৃবিজ্ঞান বিভাগের প্রথম বর্ষ দ্বিতীয় সেমিস্টারের তাজবির।
ছাত্রলীগের ১২ কর্মী হলেন, মনোয়ার হোসেন, ফাইয়াজ, নিয়াজ, তৌকির তন্ময়, রাখশ মল, রনি তালুকদার, সজীব, সাখাওয়াত, শাহ আলম, মাহবুব, শাওন ও কামরুল ইসলামকে ৫০০ টাকা করে জরিমানা করার পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা কেন নেয়া হবে না তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
এছাড়া ছাত্রলীগের ২০ নেতা-কর্মীরা হচ্ছেন জাকারিয়া,রাব্বী, শিহাব, রুহুল আমিন, কামরুল ইসলাম, নূরে আলম, তৌকির আহমদ তালুকদার, ঝুটন, আবদুল হাদি, আমজাদ, জনি, মোশাররফ, জাকির, আরাফাত ইয়াসিন, বাসিত মিয়া, মুনকির, ইয়ামিন, স্বাধীন, মোমিন ও আজমাইন। তাদের ৫০০ টাকা করে জরিমানাসহ শাহপরান হল থেকে কেন বহিষ্কার করা হবে না তা জানতে চেয়ে নোটিশ দিয়েছে হল প্রশাসন।
শাহপরান হলের ভারপ্রাপ্ত প্রাধ্যক্ষ শহীদুল হোসাইন বলেন, গত ৩১ আগস্ট বিকেল ৫টার পর ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনার ভিডিও ফুটেজ দেখে শনাক্ত করে তাদের নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, ফুটবল খেলার কমিটিকে কেন্দ্র করে গত ২৭,২৮ ও ৩১ আগস্ট শাবি শাখা ছাত্রলীগের মধ্যে কথা কাটাকাটি, হাতাহাতি ও বিবাদমান গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করে। এ ঘটনায় সভাপতি সঞ্জীবন চক্রবর্তী পার্থ, সাধারণ সম্পাদক ইমরান খান ও সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সদস্য উত্তমের সমর্থক রনি-সাখাওয়াত অনুসারী কর্মীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় শাবি প্রশাসন হল বন্ধসহ ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের কারণ দর্শাণোর নোটিশ দেয়।
/এমডিপি/আপ-এআরএল/
আরও পড়ুন:








