সিলেটের তামাবিল শুল্ক স্টেশন দিয়ে ভারতের জ্বালানি তেল ও গ্যাসবাহী লরির প্রথম চালান বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। শনিবার বিকালে ১০টি লরি তামাবিল চেকপোস্ট অতিক্রম করে মৌলভীবাজার-শমশেরনগর-চাতলাপুর চেকপোস্ট হয়ে ভারতের ত্রিপুরার উদ্দেশে ছেড়ে যায়।
তামাবিল সীমান্ত দিয়ে ৯টি তেলবাহী ও একটি এলপিজি গ্যাসবাহী লরি বাংলাদেশে প্রবেশ করে। সিলেটের সড়ক পথ ব্যবহার করে ভারতের মেঘালয় রাজ্য থেকে ত্রিপুরা রাজ্যে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এসব তেল ও এলপিজি গ্যাস।
শনিবার রাত ১১টায় গাড়িগুলো চাতলাপুর স্টেশন দিয়ে ত্রিপুরায় প্রবেশ করে।
তামাবিল স্থলবন্দরে উপস্থিত ছিলেন সিলেট সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ মনিরুল ইসলাম, তামাবিল শুল্ক বন্দরের রাজস্ব কর্মকর্তা আরিফুর রহমান, ইমিগ্রেশন চেক পোস্ট কর্মকর্তা মো. রুনু মিয়া, ভারতীয়দের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন মেঘালয়ের সড়ক বিভাগের আঞ্চলিক উপ-পরিচালক অসিম পাল চৌধুরীসহ অন্য কর্মকর্তারা।
সিলেটের সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ মনিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, জ্বালানি তেলবাহী ট্যাংক লরি পরিবহনে বাংলাদেশকে ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহার করতে প্রতি কিলোমিটারে টন বাবদ ১.০২ পয়সা করে শুল্ক দেবে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ।
তামাবিল চেক পোস্টের ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা মো. রুনু মিয়া জানান, সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিকেল সাড়ে ৫টায় জ্বালানি তেলবাহী ১০টি লরি তামাবিল চেকপোস্ট অতিক্রম করে ত্রিপুরার উদ্দেশে ছেড়ে যায়।
সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, ভারতীয় ট্যাংকারগুলো উত্তর আসামের বঙ্গাইগাঁও থেকে যাত্রা করে মেঘালয়ের ডাউকি সীমান্ত দিয়ে সিলেটের তামাবিল-মৌলভীবাজারের চাতলাপুর হয়ে প্রায় চার ঘণ্টায় ১৩৬ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে উত্তর ত্রিপুরার কৈলাশহরে প্রবেশ করে। রবিবার রাত ১১টার দিকে গাড়ি গুলো কৈলাশহরে প্রবেশ করতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে।
সূত্র জানায়, ত্রিপুরায় জ্বালানি তেল সরবরাহের পর খালি যানবাহনগুলো বাংলাদেশের চাতলাপুর চেকপোস্ট হয়ে একই পথে ভারতে ফিরে যাবে। এসব পণ্য ৪০০ কিলোমিটারের বেশি পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়ে ত্রিপুরায় নিতে ১০ ঘণ্টারও বেশি সময় লাগে। তাছাড়া মেঘালয় ও দক্ষিণ আসাম হয়ে জাতীয় মহাসড়কের অবস্থাও খারাপ। সম্প্রতি ভারি বর্ষণ এবং পাহাড়ি ভূমিধসের কারণে আসাম থেকে ত্রিপুরাগামী সড়কপথ (এনএইচ-৪৪) ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ত্রিপুরার সঙ্গে ভারতের অন্যান্য অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। ফলে ত্রিপুরা রাজ্যে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যসহ জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
বাংলাদেশের সড়ক পথ ব্যবহার করে ভারতের এক রাজ্য থেকে আরেক রাজ্যে জ্বালানি পরিবহনের জন্য গত ১৮ আগস্ট ঢাকায় বাংলাদেশের সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের সঙ্গে ভারতের ইন্ডিয়ান অয়েল করপোরেশন লিমিটিডের (আইওসিএল) মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত (এমওইউ) হয়।
আরও পড়ুন-
৩ শিশু সন্তানের কথাও ভাবেনি জঙ্গিরা
২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও নেভেনি টঙ্গীর আগুন
/এফএস/








