৮ ডিসেম্বর মৌলভীবাজার মুক্ত দিবস। ২ ডিসেম্বর রাতে মৌলভীবাজারের পূর্ব সীমান্তের কাছাকাছি শমসেরনগর বিমানবন্দর ও চাতলাপুর বিওপিতে পাকিস্থানি হানাদার বাহিনীর অবস্থানের উপর মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর সম্মিলিত আক্রমণ শুরু হয়। তীব্র আক্রমণের মুখে পাক সেনারা শমশেরনগরে টিকতে না পেরে মৌলভীবাজার শহরে ফিরে আসে।
মৌলভীবাজারে ছিল পাক সেনাদের ব্রিগেড হেড কোয়ার্টার। মুক্তিযোদ্ধা ও মিত্র বাহিনী মৌলভীবাজার দখলের উদ্দেশ্যে ৪ ডিসেম্বর বিকেল ৪টার দিকে শহর থেকে ৪ কিলোমিটার দূরে কালেঙ্গা পাহাড়ে অবস্থান নেয়। সেখানে বড়টিলা নামক জায়গায় পাক বাহিনীর সঙ্গে মিত্র বাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর যুদ্ধ হয়। এ যুদ্ধে মিত্র বাহিনীর ১২৭ জন সেনা নিহত হন।
৫ ডিসেম্বর থেকে পাকিস্থানি হানাদার বাহিনীর প্রতিরক্ষা ব্যুহ ভেঙে পড়তে শুরু করে। ফলে মুক্তিযোদ্ধা ও মিত্র বাহিনীর যৌথ হামলা প্রতিরোধ করতে তারা ব্যর্থ হতে থাকে। এ অঞ্চলের পরাজিত পাকিস্থানি সৈন্যরা তখন সিলেট অভিমুখে পালাতে শুরু করে। এসময় তাদের এলোপাতাড়ি গুলিতে অনেক সাধারণ মানুষ নিহত ও জখম হন।
সিলেটে যাওয়ার পথে তারা শেরপুরে অবস্থান নেয়। পরে অবস্থান নিরাপদ নয় মনে করে সিলেট চলে যায়। এই ঘাতক বাহিনীর পিছু হটার ফলে ৮ ডিসেম্বর পুরো মৌলভীবাজার হানাদারমুক্ত হয় এবং আকাশে উড়ে স্বাধীন বাংলার পতাকা।
মৌলভীবাজারে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ছিল ১৪৭০ জন। এরমধ্যে সংগঠক ছিলেন দুইশ’র বেশি।
বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাবেক সাংসদ ও হানাদার মুক্ত দিবস উদযাপন পরিষদের মৌলভীবাজারের আহবায়ক আজিজুর রহমান ৮ ডিসেম্বরের স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘তৎকালীন মহকুমা প্রশাসকের বাংলোতে স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করি ৮ ডিসেম্বর সকালে।’ তিনি বলেন, ‘যুদ্ধকালীন সময়ে অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধা পঙ্গু হয়েছে কিন্তু আমরা তাদের জন্য কিছুই করতে পারিনি।’
আর এ দিবসটি উপলক্ষে জেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট কমান্ড কাউন্সিলের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার (আজ) সকালে চাঁদনীঘাট এলাকায় জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ,স্মৃতিচারণ ও আলোচনাসভার আয়োজন করা হয়েছে। বিকালে তথ্য অফিসের আয়োজনে তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হবে।
/এফএইচএম/








