সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল চত্বরে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের অবৈধ স্ট্যান্ড উচ্ছেদ করা হয়েছে। পুলিশসহ হাসপাতালের পরিচালকের উপস্থিতিতে সোমবার (১৯ ডিসেম্বর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে অবৈধ স্ট্যান্ড উচ্ছেদ করা হয়। পরে সেখানে লোহার পাইপ দিয়ে বেষ্টনি নির্মাণ করা হয়।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, হাসপাতালের বহির্বিভাগের ভবনের চত্বরের একাংশ বেসরকারিভাবে পরিচালিত অ্যাম্বুলেন্সের স্ট্যান্ড হিসেবে ব্যবহৃত হতো। প্রায় ছয় মাস আগে হাসপাতালের প্রশাসন বিভাগ স্ট্যান্ড উচ্ছেদে পাইপ দিয়ে চত্বর সংরক্ষিত করে রাখে। গত ১৪ ডিসেম্বর রাতে ওই পাইপ ভেঙে অ্যাম্বুলেন্স রাখা শুরু হয়। এ সময় হাসপাতালে কর্তব্যরত পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরাও কোনও বাধা দেয়নি। এ ঘটনার চার দিনের মাথায় আজ সকাল ১০টায় হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আবদুস ছবুর মিঞা কোতোয়ালী থানার একদল পুলিশ নিয়ে উচ্ছেদ অভিযান চালান। অ্যাম্বুলেন্স ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের সূত্রে জানা গেছে, ওসমানী হাসপাতালকেন্দ্রিক দুই শতাধিক অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে। ব্যবসায়িক কারণে অ্যাম্বুলেন্সগুলো সাধারণত হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সম্মুখ ও রোগীর যাতায়াতস্থলে রাখা হয়।
অভিযান শুরুর আগে সকালে হাসপাতাল চত্বরে গিয়ে দেখা গেছে, বহির্বিভাগের নতুন ভবনের পূর্ব দিকের চত্বরের পুরোটা প্রাইভেট অ্যাম্বুলেন্সের দখলে। সারিবদ্ধ করে ৩০টি অ্যাম্বুলেন্স রাখা। এগুলোর কারণে পূর্ব দিক দিয়ে হাসপাতাল চত্বরে চলাচলও বাধাগ্রস্ত হয়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হাসপাতাল প্রশাসন বিভাগের লোকবল নিয়ে পরিচালক অবৈধ স্ট্যান্ড চিহ্নিত করে দিলে পুলিশ উচ্ছেদ অভিযান চালায়। প্রায় ঘণ্টা খানেক অভিযানে অ্যাম্বুলেন্স চালকেরা অবৈধ স্ট্যান্ড হিসেবে ব্যবহৃত স্থান ত্যাগ করলেও হাসপাতাল চত্বরের ফাঁকা আরেকটি অংশ দখল করে। পরে সেখানেও অভিযান চালানো হয়। চত্বর অ্যাম্বুলেন্সমুক্ত হওয়ার পর সেখানে লোহার পাইপ দিয়ে তাৎক্ষণিক বেষ্টনি নির্মাণ করা হয়।
অভিযান শেষে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আবদুস ছবুর মিঞা বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, সরকারি হাসপাতালের চত্বর রোগী সাধারণের চলাচলের জন্য ফাঁকা রাখতে হবে। দেশের কোথাও হাসপাতাল চত্বর এভাবে অ্যাম্বুলেন্স স্ট্যান্ড হিসেবে ব্যবহারের নজির নেই। একাধিকবার বলার পরও অ্যাম্বুলেন্স চালকেরা চত্বরে অবস্থান ত্যাগ না করায় এ অভিযান চালানো হয়েছে। এখন থেকে হাসপাতাল চত্বর সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হবে।
এদিকে চত্বর থেকে স্ট্যান্ড উচ্ছেদের পর অধিকাংশ অ্যাম্বুলেন্স হাসপাতালের সামনের রাস্তার আশপাশে অবস্থান নিতে দেখা গেছে। অ্যাম্বুলেন্সের সঙ্গে তখন চালক ও মালিকদেরও দেখা যায়। তারা জানান, অন্তত রোগী বহনকালে অ্যাম্বুলেন্সগুলো যাতে হাসপাতাল চত্বরে যেতে পারে, এ বিষয়ে তারা পরিচালকের দৃষ্টি আকর্ষণ করবেন।
/এআর/








