মোঘল ও ব্রিটিশ শাসন আমল থেকেই নানা কারণে গুরুত্বপূর্ণ মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগর। মনোরম পরিবেশে অবস্থিত শমশেরনগরে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশরা একটি বিমানবন্দর স্থাপন করেছিল। কুলাউড়ার লংলার জমিদার আলী আমজাদের বংশধর নওয়াব আলী হায়দার খান ও নওয়াব আলী আজগর খানের আমন্ত্রণে ১৯৫১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ইরানের রয়েল ইয়ার ফোর্সের একটি বিমানে শমশেরনগর এসেছিলেন সে সময়কার ইরানের শাহেন শাহ রেজা পাহলভী।
বিমানবন্দরে অবতরণের পর শমশেরনগর থেকে লাল গালিচা স্থাপন করে রেলওয়ে স্টেশন থেকে বিশেষ ট্রেনে নওয়াব বাড়ি গিয়ে ছিলেন তিনি। তখন শাহেন শাহের সফরসঙ্গী ছিলেন খাজা নাজিম উদ্দীন, ইসকান্দার মির্জা ও আইয়ূব খান। ইরানের শাহেন শাহের সম্মানে শমশেরনগর রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় ইট-পাথর দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছিল একটি তোরণ, ‘ইরানি তোরণ’ হিসাবে যার পরিচয়। একই রকম কিছুটা ছোট আকারের আরও একটি তোরণও নির্মিত হয়েছিল লংলা রেলওয়ে স্টেশন এলাকায়।
সম্প্রতি শমশেরনগর প্রাক্তন পুনর্মিলনী-২০১৭ কেন্দ্র করে স্থানীয় এএটিএম বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ২০০১ সনের এসএসসি ব্যাচের ২৭ জন শিক্ষার্থী উদ্যোগ নিয়ে নিজেদের অর্থায়নে ভেঙে পড়া স্থানে নতুন করে একটি তোরণ ও বাম দিকের তোরণটিও সংস্কার করেছে। ২৭ জানুয়ারি শুক্রবার দুপুরে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে এ তোরণ উদ্বোধন করবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান খান কামাল।
কমলগঞ্জ থানার ওসি বদরুল হাসান বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আগমণ উপলক্ষে সব ধরণের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
শমশেরগর এলাকার সমাজসেবক মো. জুবের আহমদ জানান, শমশেরনগরে আরও পদার্পণ করেছিলেন মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, ইরানের শাহেন শাহ রেজা পাহলভী, জহরলাল নেহরু নেতাজি সুভাস চন্দ্র বসু, মাওলানা জাফর আহমদ উসমানী, স্বভাব কবি মুকুন্দ দাস, কমরেড তোয়াহা, জুলফিকার আলী ভুট্টো ও আব্বাস উদ্দীনসহ খ্যাতনামা গুণীজন।
তোরণ নির্মাণ কাজে তদারকিতে থাকা রাসেল চৌধুরী ও লোপন মিয়া বলেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধে শমশেরনগরের গৌরবময় ভূমিকা রয়েছে। আর ইরানি তোরণটি শমশেরনগরের ইতিহাসের একটি অংশ। ইতিহাস ঐতিহ্য ধরে রেখে আগামী প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার তাগিদে এ কাজ করেছি। ইউনিয়ন পরিষদ বা উপজেলা প্রশাসন এর আগেই এ উদ্যোগ নিতে পারতেন।’
/এমও/








