সিলেট মহানগরীতে ‘জঙ্গি ঠেকাতে’ বাসা-বাড়িতে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করছে পুলিশ। সিলেটের দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ির আতিয়া মহলে সেনাবাহিনীর প্যারা-কামান্ডোদের অভিযানে চার জঙ্গি নিহত হওয়ার পর মহানগর পুলিশ এ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। বৃহস্পতিবার সিলেট মহানগর পুলিশের শাহপরাণ থানাধীন নগরের তেররতন, সাদারপাড়া, সৈদানীবাগ, পশ্চিম তেররতন, মেন্দিবাগ, মাছিমপুর, সুবজবাগ, শিবগঞ্জ, লামাপাড়াসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় গিয়ে পুলিশকে বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়াদের কাছ থেকে তথ্য নিতে দেখা গেছে। এমনকি ভাড়াটিয়ারা আগে কোথায় ছিলেন সে তথ্যও নিচ্ছে পুলিশ।
পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে বুধবার থেকে সিলেট মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের পক্ষ থেকে বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়াদের তথ্য চেয়ে মাইকিং ও প্রচারণা শুরু হয়েছে। আগামী তিনদিনের মধ্যে সংগ্রহীত তথ্যগুলো সংশ্লিষ্ট থানা কিংবা পুলিশ ফাঁড়িতে জমা দেওয়ার জন্য ভাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়াদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও মহানগরীর প্রত্যেক থানার ওসিকে নিজ থানাধীন এলাকাগুলোর তথ্য সংগ্রহ করে কয়েকদিনের মধ্যে সিলেট মহানগর পুলিশের সদর দফতরে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। যদি কেউ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথ্য জমা দিতে না পারেন তাহলে তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সিলেট মহানগরীর তেররতন এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী মান্না আহমদ জানান, পুলিশের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। এটা খুব ভালো কাজ।
কোতোয়ালি থানাধীন কুমারপাড়ার বাসিন্দা ছত্তার মিয়া জানান, পুলিশের মাইকিংয়ের কারণে এ বিষয়টি অনেকেই জেনেছেন। এটা আরও আগে করা উচিত ছিল।
সিলেট মহানগর পুলিশের উপ পুলিশ কমিশনার (গণমাধ্যম) জেদান আল মুসা বাংলা ট্রিবিউন’কে জানান, মহানগরীর প্রত্যেক থানাকে ভাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়াদের তথ্য সংগ্রহ করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তথ্যগুলো দিয়ে সিলেট মহানগর পুলিশের সদর দফতরে ডাটাবেজ করা হবে। এই ডাটাবেজে সব তথ্য থাকবে। যারা পুলিশকে তথ্য দিতে গাফিলতি করবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সিলেট মহানগর পুলিশের শাহপরাণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহপরাণ মুন্সি জানান, এরইমধ্যে পুলিশ তথ্য সংগ্রহের কাজে নেমেছে। বেশ কয়েকটি এলাকায় কাজও করছে পুলিশ।
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল আহাম্মদ জানান, বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়াদের তথ্য চেয়ে তার থানাধীন এলাকাগুলোতে মাইকিং করানো হয়েছে। এবং বিনামূল্যে ফরম বিতরণ করা হয়েছে।
জানা যায়, সিলেট মহানগরীতে রয়েছে ২৭টি ওয়ার্ড। এসব ওয়ার্ডের নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য মহানগর পুলিশকে ( উত্তর ও দক্ষিণ) দুটি ভাগে ভাগ করা হয়। মহানগরীর উত্তরে রয়েছে সিলেট সিটি করপোরেশনের ১ থেকে ২৪নং ওয়ার্ড আর দক্ষিণে রয়েছে ২৫,২৬,২৭ নং ওয়ার্ড। মহানগর পুলিশ এসকল ওয়ার্ডের সার্বিক নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য উত্তর বিভাগের কার্যক্রম চলছে কোতায়ালি, জালালাবাদ ও এয়ারপোর্ট থানা দিয়ে। সেই সাথে উত্তর বিভাগের পুলিশ ফাঁড়িগুলো হলো- আম্বরখানা, সোবহানীঘাট, বন্দরবাজার, শিবের বাজার, শাহজালাল তদন্ত কেন্দ্র ও লামাবাজার পুলিশ ফাঁড়ি। আর দক্ষিণ বিভাগের কার্যক্রম চলছে শাহপরাণ (রহ.), মোগলাবাজার ও দক্ষিণ সুরমা থানা নিয়ে। এছাড়াও দক্ষিণ বিভাগের ফাঁড়িগেুলো হলো-কদমতলী,শাহপরাণ (রহ.) তদন্ত কেন্দ্র, উপশহর, কামালবাজার তদন্ত কেন্দ্র ও আলমপুর পুলিশ ফাঁড়ি।
/জেবি/
আরও পড়তে পারেন: এখনও দুই জঙ্গির লাশ আতিয়া মহলে
ওসির আত্মহত্যা: সাবেক স্ত্রীর বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা








