পাঁচতলা আতিয়া মহলের ৩০টি ফ্ল্যাটে থাকতো ২৮টি পরিবার। গত শনিবার (২৫ মার্চ) অভিযানের শুরুতে ২৮টি ফ্ল্যাট থেকে ৭৮ জন বাসিন্দাকে উদ্ধার করা হয়। অভিযান শেষ হয়ে যাওয়ায় উদ্ধার হওয়া পরিবারগুলো বাসায় ফিরতে চাচ্ছে। কিন্তু, বাড়িটিতে এখনও বোমাসহ বিস্ফোরকদ্রব্য ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকায় তাদের এখনই বাড়ি ফেরা হচ্ছে না পুলিশের নির্দেশে। বরং, তাদের নিরাপদ স্থানে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (গণমাধ্যম) জেদান আল মুসা বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, 'ভবনের ভেতরে এখনও অনেক বিস্ফোরক ও বোমা ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল আসার পর ভবনের বোমাগুলো নিষ্ক্রিয় করা হবে। '
এছাড়াও আতিয়া মহলের পাঁচতলা ভবনটির ভেতর ও বাইরের দিক গোলা-বারুদের আঘাতে ঝাঁঝরা হয়ে গেছে। জঙ্গিদের কাবু করতে অভিযানের সময় রকেট লঞ্চার ও মর্টারের শেলের সঙ্গে ভারি অস্ত্র ও গোলার আঘাতে দেয়ালে দেয়ালে অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ভবনের জানালার কাচ ভাঙা। ফলে ভবনটি নড়বড়ে ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (৩০ মার্চ) রাতে দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ি এলাকায় ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে শিববাড়িসহ আশপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ দেওয়া হয়েছে। গত মঙ্গলবার (২৮ মার্চ) সেনাবাহিনীর প্যারা-কমান্ডো দল অভিযান শেষে পুলিশকে আতিয়া মহল বুঝিয়ে দিয়ে যায়।
উল্লেখ্য, অভিযানের শুরুতে গত শুক্রবার (২৪ মার্চ) সন্ধ্যা থেকে পুরো এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেয় সেনাবাহিনীর প্যারা-কমান্ডো দল। (২৫ মার্চ) শনিবার ভোরে আতিয়া মহলে অভিযান শুরু করে সোয়াত ও সেনাবাহিনীর প্যারা-কমান্ডো বাহিনী। সেনাবাহিনীর অপারেশন ‘টোয়াইলাইট’-এর শুরুতে ভবনের ভেতর থেকে ৭৮ বাসিন্দাকে নিরাপদে সরিয়ে আনা হয়। পরে মঙ্গলবার (২৮ মার্চ) অভিযান শেষে পুলিশকে আতিয়া মহল বুঝিয়ে দিয়ে যায় সেনাবাহিনী।
/জেবি/টিএন/
আরও পড়তে পারেন: অপারেশন ম্যাক্সিমাস: ‘জঙ্গি দম্পতি’ আত্মঘাতী হয় বাথরুমে, অন্যজন ঘরে








