সিলেটে তারাপুর চা-বাগান জালিয়াতি করে দখল ও সরকারের হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় কারাবন্দি রাগীব আলীর বিরুদ্ধে আরেকটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলা হয়েছে। সোমবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে সিলেটের মুখ্য মহানগর বিচারিক হাকিম আদালতে মামলা করেছেন সিলেট নগরের তোপখানা এলাকার বাসিন্দা মো. আখলাকুর রহমান নামে একজন ব্যবসায়ী।
শুনানি শেষে মামলাটি আমলে নিয়ে মুখ্য বিচারিক হাকিম মো. সাইফুজ্জামান হিরো আসামি রাগীব আলীর বিরুদ্ধে সমন জারির আদেশ দিয়েছেন।
মামলার আইনজীবী মোহাম্মদ আলী এ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আগামী ১৮ এপ্রিল এ মামলার পরবর্তী তারিখ ধার্য করেছেন আদালত।
মামলার বাদী মো. আখলাকুর রহমান 'নাবিদা ডেভেলপমেন্ট লি.' নামের আবাসন কোম্পানির চেয়ারম্যান। মামলার এজহারে উল্লেখ করা হয়, বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে রাগীব আলী পালিয়ে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছিলেন। এ সময় তার মালিকানাধীন ব্যাংক ঋণের বিপরীতে বন্ধকী সম্পত্তি নিলাম হওয়ার বিষয়টি আকস্মিকভাবে জানান। তখন রাগীব আলীর কাছে দুই লাখ ১৫ হাজার পাউন্ড (বাংলাদেশি টাকা প্রায় দুই কোটি ৭৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা) যুক্তরাজ্যে অবস্থানকালে দেওয়া হয়। এ টাকা পুরোটাই রাগীব আলী আত্মসাৎ করেন।
মামলার এজহারের সঙ্গে লেনদেনের প্রমাণপত্র হিসেবে ব্যাংকের হিসাব, সাক্ষী ও অর্থ ঋণ জারির দরখাস্তের সত্যায়িত কপি সংযুক্ত করা হয়। এ ছাড়া, রাগীব আলীর বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগের প্রমাণ হিসেবে প্রথম আলোয় ২০১৬ সালের ৩ আগস্ট ছাপা হওয়া 'জাল দলিলে জমি কেনাবেচা' শিরোনামের প্রতিবেদনের সত্যায়িত কপি আদালতে উপস্থাপন করা হয়।
সিলেটের মুখ্য মহানগর বিচারিক হাকিম আদালতে রাগীব আলীর বিরুদ্ধে দেবোত্তর সম্পত্তির তারাপুর চা বাগান দখল করে সরকারের হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ মামলার বিচার শেষ হয়েছে। আগামী ৬ এপ্রিল এ মামলার রায় ঘোষণার তারিখ ধার্য রয়েছে। এছাড়া একই আদালতে গত ২ ফেব্রুয়ারি জালিয়াতির মামলায় রাগীব আলী ও তার ছেলে আবদুল হাইয়ের ১৪ বছর করে কারাদণ্ড হয়েছে। গত বছরের ২৩ নভেম্বর থেকে রাগীব আলী কারাগারে আছেন।
/এআর/








