সিলেটে সাবেক ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর হামলার মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হরকাতুল জিহাদ (হুজি) নেতা দেলোয়ার হোসেন রিপনের সঙ্গে দেখা করেছেন তার পরিবারের সদস্যরা। তবে সাক্ষাতের জন্য সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে রিপনের পরিবারকে কোনও চিঠি দেওয়া হয়নি বলে জানান সিলেট জেল সুপার ছগির মিয়া।
সিলেট জেল সুপার আরও জানান, ‘চিঠি না পেলেও মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে রিপনের পরিবারের সদস্যরা তার সঙ্গে দেখা করেন। প্রায় আধঘণ্টা তারা রিপনের সঙ্গে কথা বলেন। রিপন তার পরিবারের সঙ্গে দেখা করার পর কিছুটা চিন্তিত হয়ে পড়েছে বলে দেখা গেছে।’
কারাগার সূত্র জানায়, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জঙ্গি দেলোয়ার হোসেন রিপনের সঙ্গে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে শেষ দেখা করেছেন তার বাবা আ. ইউসুফ, মা আজিজুন্নেছা, ভাই নাজমুল ইসলাম ও তার স্ত্রী। ফাঁসি কবে ও কখন কার্যকর হবে এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা চলছে। কারাগারে জল্লাদকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার (১১ এপ্রিল) সকালে রাষ্ট্রপতির কাছে করা রিপনের প্রাণভিক্ষার আবেদন নাকচ সংক্রান্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠি সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে পৌঁছে। এরপর তা রিপনকে পড়ে শোনানো হয়।
উল্লেখ্য সিলেটের হযরত শাহজালালের (রা.) মাজারে ২০০৪ সালের ২১ মে আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলা হয়। হামলায় আনোয়ার চৌধুরী, সিলেটের জেলা প্রশাসকসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত এবং পুলিশের দুই কর্মকর্তাসহ তিনজন নিহত হন। ওই মামলায় ২০০৮ সালের ২৩ ডিসেম্বর বিচারিক আদালত ৫ আসামির মধ্যে মুফতি হান্নান, শরীফ শাহেদুল বিপুল ও দেলোয়ার হোসেন রিপনকে মৃত্যুদণ্ড এবং মহিবুল্লাহ ও আবু জান্দালকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ১৯ মার্চ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে মুফতি হান্নানের রিভিউ আবেদন খারিজ করে আগের রায় বহাল রাখেন। এরপর তিন আসামিই রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করেন। রাষ্ট্রপতি আবেদন খারিজ করে দেন। এখন ফাসি কার্যকরে আর কোনও আইনি বাধা নেই। মুফতি হান্নান ও বিপুল গাজীপুর হাইসিকিউরিটি কারাগারে বন্দি আছেন।
/এফএস/
আরও পড়ুন-








