রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলেছেন, ‘শুধু পানি উন্নয়ন বোর্ড বাঁধ দিলেই হাওরের ফসল রক্ষা হবে না। আগাম বন্যার হাত থেকে ফসল রক্ষা করতে হলে মেঘালয় সীমান্ত থেকে ভৈরব বাজার পর্যন্ত নদনদী খনন করতে হবে। এজন্য স্থানীয় প্রশাসন ও সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে।’
সোমবার সুনামগঞ্জে ক্ষতিগ্রস্ত হাওর এলাকা পরিদর্শন শেষে রাতে শিল্পকলা একাডেমিতে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, ‘হাওর এলাকার জনগণকে রক্ষার জন্য ছোট ছোট ইকোনমিক জোন গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছি প্রধানমন্ত্রীর কাছে। প্রধানমন্ত্রীকে হাওরের সমস্যা জানিয়েছি। তিনি আমাকে বলেছেন-হাওর নিয়ে চিন্তা করবেন না, আমাদের প্রচুর খাদ্য মজুদ রয়েছে। একজন মানুষও না খেয়ে থাকবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়ার কথা সরকারকে বলবো। আগামী ফসল ওঠার আগে পর্যন্ত খাদ্য সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাব করবো।’
ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে দুর্নীতি প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘মতবিনিময় সভায় সবাই পাউবো, ঠিকাদার, পিআইসির দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার দেখছি। এত সোচ্চারের পরও দুর্নীতি হয় কীভাবে? মাটির বাঁধ যত শক্তিশালীই হোক পানির প্রবল বেগে বাঁধ ভেঙে যাবেই। মাটির বাঁধ দিয়ে হাওর রক্ষা করা যাবে না। বিজ্ঞান সম্মত টেকসই বাঁধ নির্মাণ করতে সরকারকে পদক্ষেপ নিতে হবে।’
মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘সুনামগঞ্জের সঙ্গে আমার বহুকাল আগের সম্পর্ক। তবে বিচ্ছেদ অনেক লম্বা। ৭১’ সালের মে মাসে মুক্তিযুদ্ধের সময় ৪/৫ দিন উপবাস থেকে সুনামগঞ্জ থেকে তাহিরপুর হয়ে ট্যাকেরঘাট গিয়েছিলাম। তখন আব্দুজ জহুর শুঁটকি মাছ দিয়ে দেড়সের চালের ভাত খাইয়েছিল। সুনামগঞ্জবাসীর সুদিনে আমার আসার ইচ্ছে ছিল কিন্তু আমাকে কেউ নিয়ে আসেননি। কিন্তু দুর্দিনে এসে হাজির হয়েছি। কিশোরগঞ্জ সুনামগঞ্জের সমস্যা একই। সুনামগঞ্জবাসীর কান্না কিশোরগঞ্জ থেকে শুনতে পাই। ৭১ সালে দুর্যোগের সময় পাশে দাঁড়িয়েছি এখনও দুর্গত হাওরবাসীর পাশে রয়েছি। আমি কৃষকের সন্তান, তাই কৃষকের দুঃখ কষ্ট বুঝি।’
তিনি বলেন, ‘আমি সরকার না এই মতবিনিময় সভায় সরকারের প্রতিনিধিত্ব করছেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান। সরকারের সহযোগী হিসেবে সংসদ সদস্যরা উপস্থিত রয়েছেন। আমি সংসদের অধিবেশন ডেকে এসেছি। তারা আগামী অধিবেশনে দাঁড়িয়ে সমস্বরে হাওরের সমস্যার কথা জাতীয় সংসদে তুলে ধরবেন।’
মতবিনিময় সভায় অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী হাওরবাসীর সমস্যা সম্পর্কে ভালোভাবে অবগত আছেন। হাওরবাসীকে রক্ষা করতে খাদ্য সহায়তা, কৃষি ঋণ সহায়তা, হাওর উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করতে প্রস্তুত রয়েছি। সবাই মিলে দুর্যোগ কাটিয়ে উঠবে পারবো।’
মতবিনিময় সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন, মুহিবুর রহমান মানিক, পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ, ড. জয়া সেনগুপ্তা, শামছুন নাহার বেগম শাহানা রব্বানী, রেজুয়ান আহমদ তৌফিক, সিলেট বিভাগীয় কমিশনার ড.নাজমুনারা খানম, ডিআইজি কামরুল হাসান, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল হুদা মুকুট, দোয়ারাবাজার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ইদ্রিস আলী বীরপ্রতীক, পৌর মেয়র আইয়ুব বখত জগলুল, পুলিশ সুপার বরকতউল্ল্যা খাঁন প্রমুখ।
/বিএল/








