দুই বছর ধরে নষ্ট সুনামগঞ্জ হাঁস প্রজনন খামারের ইনকিউবেটর

হিমাদ্রি শেখর ভদ্র, সুনামগঞ্জ
২০ জানুয়ারি ২০১৮, ১৪:৩১আপডেট : ২০ জানুয়ারি ২০১৮, ১৪:৩১

আঞ্চলিক হাঁস প্রজনন খামার সুনামগঞ্জ হাঁস প্রজনন খামারের একমাত্র ইনকিউবেটটি (ডিম থেকে বাচ্চা ফোটানোর মেশিন) দুই বছর ধরে নষ্ট। ফলে দুই বছর ধরে এখানে কোনও বাচ্চা উৎপাদন হয় না। এছাড়া জনবল সংকটের কারণে কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। উপজেলা পর্যায়ে সরাসরি বিপণনের সুযোগ না থাকায় প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম  সম্পর্কে খামারিরা খুব একটা জানতে পারছেন না।

আঞ্চলিক হাঁস প্রজনন খামারের ইনকিউবেটর হাউজ ২০০৭ সালে শহরতলির মাইজবাড়ি এলাকায় পাঁচ একর জায়গার ওপর প্রতিষ্ঠা করা হয় আঞ্চলিক হাঁস প্রজনন খামার।এখানে রয়েছে একটি অফিস ভবন, খাদ্য গুদাম, হ্যাচারি ভবন,  ব্রুডার শেড, গ্রোয়ার শেড ও লেয়ার শেড। প্রতিষ্ঠার দুই বছর পর ২০০৯ সালে এটি চালু হয়। খামারটির হাঁস পালনের লক্ষ্যমাত্রা গড়ে এক হাজার। কিন্তু সীমিত জনবল নিয়ে গত ৮ বছরে এখানে ১২ লাখ ডিম, ৪ লাখ হাঁসের বাচ্চা উৎপাদন হয়। এছাড়া সেসময় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে বেতন না পাওয়ায় কাজকর্ম ব্যাহত হয়। এই প্রজনন খামার থেকে বাচ্চা ও ডিম ক্রয় করেন জেলার মাত্র ৫০০ খামারি। অথচ জেলায় তিন হাজারের বেশি হাঁসের খামারি রয়েছেন। এখানকার উৎপাদিত ডিম ও বাচ্চা দিরাই, সদর, বিশ্বম্ভরপুর,দোয়ারাবাজার, তাহিরপুর ও দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার খামারিরা কেনার সুযোগ পান। তবে বাকি উপজেলার খামারিরা এখান থেকে কোনও সুযোগ-সুবিধা পান না।

নষ্ট ইনকিউবেটর এদিকে, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এখানে রয়েছে লোকবল সংকট। একজন পোল্ট্রি ডেভেলপমেন্ট অফিসার (পিডিএ), একজন পোল্ট্রি টেকনিশিয়ান, একজন ক্যাশিয়ার, একজন  অফিস সহকারী, একজন ইলেকট্রিশিয়ান, একজন ডাক অ্যাটেনডেন্ট, একজন হ্যাচারি অ্যাটেনডেন্ট, দুইজন নিরাপত্তা প্রহরী ও একজন ক্লিনারসহ প্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত জনবল রয়েছে ১০ জন। কিন্তু এসব পদের মধ্যে কর্মরত রয়েছেন মাত্র চার জন।

প্রজনন খামারে পোকায় খাচ্ছে ককশিট আঞ্চলিক হাঁস প্রজনন খামারের ব্যবস্থাপক ( অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. আজহারুল ইসলাম জানান, আঞ্চলিক হাঁস প্রজনন খামারের সমস্যাগুলো কাটিয়ে উঠতে তারা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এখান থেকে স্বল্প সংখ্যক খামারি হলেও উপকৃত হচ্ছেন। নষ্ট ইনকিউবেটর মেরামতের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। শিগগিরই এটি মেরামত করা হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তবে আরও ভালো সেবা দিতে গেলে পূর্ণাঙ্গ জনবল নিয়োগ দিতে হবে বলে মন্তব্য করেন এই কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, ‘সুনামগঞ্জ জেলায় হাঁস পালনের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি গতিশীল করা গেলে হাওরে হাঁস পালনে বিপ্লব ঘটানো সম্ভব। কারণ প্রাকৃতিকভাবে জেলার প্রতিটি  হাওরে হাঁসের খাবারের সংস্থান রয়েছে। তাই হাঁস পালনে খরচও কম। এজন্য জেলার বেকার যুবকদের মাছ ধরা ও কৃষিকাজের বিকল্প কর্মসংস্থান হিসেবে হাঁস পালনের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।’ 

/বিএল/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
ফুল দিয়ে ড. খলিলুর রহমানকে বরণ
ফুল দিয়ে ড. খলিলুর রহমানকে বরণ
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বন্ধ কলকারখানা চালু ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সভা
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বন্ধ কলকারখানা চালু ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সভা
ত্রিমুখী তদন্তের ‍মুখে বেবিচকের প্রকৌশলী শরিফুল
ত্রিমুখী তদন্তের ‍মুখে বেবিচকের প্রকৌশলী শরিফুল
শিশুর হাতে স্মার্টফোন: আশীর্বাদ না অভিশাপ? 
শিশুর হাতে স্মার্টফোন: আশীর্বাদ না অভিশাপ? 
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান