মৌলভীবাজারে জেলাভিত্তিক ইজতেমা শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৫ জানুয়ারি) বাদ ফজর আম বয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় তিন দিনব্যাপী ইজতেমার মূল আনুষ্ঠানিকতা। আগামী শনিবার (২৭ জানুয়ারি) জোহরের নামাজের আগে বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হবে এই ইজতেমা।
ইজতেমা সফল করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন আয়োজকরা। ইজতেমায় নারীরা শুধু আখেরি মোনাজাতে শরিক হতে পারবেন। এর জন্য আলাদা ব্যবস্থা করা হয়েছে জগন্নাথপুরের এক বাড়িতে।
তাবলিগ জামাতের শুরা সদস্য ও ইজতেমা মাঠের জিম্মাদার মো. ময়নুল ইসলাম বলেন, ‘বৃহস্পতিবার বাদ ফজর আম বয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে ইজতেমার আনুষ্ঠানিকতা। ইজতেমার তিন দিনই তাবলিগের খ্যাতনামা মুরব্বিরা বয়ান রাখবেন।’
মৌলভীবাজার জেলা ইজতেমার আয়োজকদের সূত্রে জানা যায়, গত বছর থেকে টঙ্গীর তুরাগ নদীর পাড়ে ইজতেমার মাঠে জায়গার অভাবে দেশের ৩২টি জেলাকে নিজ নিজ জেলায় ইজতেমা আয়োজনের নির্দেশনা দেওয়া হয়। বাকি ৩২ জেলা বিশ্ব ইজতেমার মাঠে যাবে। আগামী বছর বিশ্ব ইজতেমার মাঠে যাওয়া ৩২ জেলা নিজ নিজ জেলায় যাবে আর এবার বাদ পড়া জেলাগুলো তুরাগ পাড়ে যাবে। এই হিসেবে এবার সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ নিজ জেলায় ইজতেমা করছে। এখানে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মুসল্লিরা জমায়েত হচ্ছেন।
ইজতেমা মাঠের আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে থাকা মুরব্বি ও কাউন্সিলর আয়াছ আহমদ বলেন, ‘পুলিশ প্রশাসনের লোকজন ছাড়াও ৫০০ স্বেচ্ছাসেবক মাঠের শৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করছে। ১৫শ’ লোকের একসঙ্গে অজুর সু-ব্যবস্থা রয়েছে। পানির জন্য ৮টি ডিপ টিউবওয়েল স্থাপন করা হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে ৮টি মেডিক্যাল ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে।’
তারা আরও বলেন, ‘ফায়ার ব্রিগেডের টিম থাকবে অ্যাম্বুলেন্সসহ। মাঠের প্রবেশমুখেই স্থাপন করা হয়েছে বড় আকারের দুটি মিনার। ইতোমধ্যে এখানে ইংল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিস্তিনি ও শ্রীলঙ্কার জামাত এসেছেন।’
মৌলভীবাজার জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহজালাল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য জেলা পুলিশ প্রশাসনের ট্রাফিক পুলিশসহ ৫০০ সদস্য দায়িত্ব পালন করছে। এছাড়া ইজতেমার জায়গায় দুটি ওয়াচ টাওয়ার স্থাপন করা হয়েছে।’








