সিলেট নগরের খারপাড়ায় মা-ছেলে খুনের ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে নাজমুল ইসলাম নামে এক তরুণকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (৪ এপ্রিল) রাতে সিলেটের বটেশ্বর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। সিলেট মহানগর পুলিশের কোতোয়ালি থানার সহকারী পুলিশ কমিশনার গোলাম কাওসার দস্তগীর এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এদিকে, নাজমুলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত তার সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।
গ্রেফতার নাজমুল শহরতলীর শাহপরাণ থানার মুক্তিরচক গ্রামের মৃত হাজী আব্দুল করিম মেম্বারের ছেলে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে পুলিশকে বেশকিছু তথ্য দিয়েছে।
জোড়া খুনের বিভিন্ন তথ্য জানাতে এক সংবাদ সম্মেলনে সহকারী পুলিশ কমিশনার গোলাম কাওসার দস্তগীর বলেন, খারপাড়ায় পার্লার ব্যবসায়ী রোকেয়া বেগম ওরফে লাবনী ও তার ছেলে রবিউল ইসলাম রোকেনকে হত্যার অভিযোগে গ্রেফতার নাজমুল হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। সে ছাড়াও আরও কয়েকজন এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিল। ঘটনার সময় সে এলাকাতেই ছিল। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপর হয়ে উঠলে সে ওই এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়।
এই পুলিশ কর্মকর্তা জানান, পুলিশ নাজমুলের ছবি তুলে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে থাকা রাইসাকে দেখায়। এ সময় রাইসা পুলিশকে জানায়— এটাই তার নাজমুল মামা।
মামলার এজহারে নাজমুলের নাম আছে কি না— জানতে চাইলে গোলাম কাওসার দস্তগীর বলেন, ‘মামলার এজহারে নাজমুলের নাম নেই। তবে রাইসার দেওয়া তথ্য থেকে তার নাম জানা যায়। রোকেয়া বেগমের সঙ্গে পার্লার ব্যবসা শুরু করার কথা বলে তার কাছ থেকে কয়েক দফা টাকা নিয়েছিল নাজমুল। এছাড়াও তাদের বাসায় দীর্ঘদিন ধরে নাজমুলসহ অন্যদের যাতায়াত ছিল।’
তদন্ত সংশ্লিষ্ট পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, প্রাথমিকভাবে তারা নিশ্চিত হয়েছেন, নারী সংক্রান্ত ঘটনার জের ধরেই রোকেয়া বেগম ও তার ছেলে রোকনকে দীর্ঘদিনের আক্রোশের জেরে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এদিকে পুলিশ রোকেয়া বেগমের ব্যবহৃত কম্পিউটার পর্যবেক্ষণ করে তার এক বান্ধবীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে এসেছে। রোকেয়া বেগমের বাসায় অপরিচিত পুরুষ ও নারীরা প্রায়ই আসা যাওয়া করত। পুলিশ এমন তথ্য স্থানীয়দের কাছ থেকে পেয়েছে।








