সরল বিশ্বাসে বাবার সঙ্গে মেয়েকে দিয়েছি: বিউটির নানি

মোহাম্মদ নূর উদ্দিন, হবিগঞ্জ
০৮ এপ্রিল ২০১৮, ২২:৩৯আপডেট : ১০ এপ্রিল ২০১৮, ০১:৪২

বিউটি আক্তার (ছবি- প্রতিনিধি) ‘বিউটিকে হত্যা করা হবে জানলে কোনও অবস্থায়ই তাদের (ময়না মিয়া ও বিউটির বাবা সায়েদ আলী) সঙ্গে দিতাম না। সরল বিশ্বাসে বাবার সঙ্গে মেয়েকে দিয়েছি। তখন সন্দেহের কোনও কারণও ছিল না। যখন বিউটির লাশ হাওরে পাওয়ার খবর জানতে পারি, তখন ময়না মিয়াকে জিজ্ঞাসা করি। ময়না মিয়া আমাকে এই বিষয়ে কাউকে কোনও কথা না বলার জন্য বলে। আমাকে ভয়ও দেখায়।’ হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে খুন হওয়া বিউটি আক্তারের নানি ফাতেম বেগম আদালতপাড়ায় শনিবার (৭ এপ্রিল) বাংলা ট্রিবিউনকে এসব কথা জানান।

১৭ মার্চ বিউটি আক্তারের লাশ স্থানীয় হাওর থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। এর আগের দিন ১৬ মার্চ নানির বাড়ি থেকে সে নিখোঁজ হয়। পরে আদালতে বিউটির নানির দেওয়া জবানবন্দি থেকে জানা গেছে, বিউটি নিখোঁজ হয়নি। ময়না মিয়া ও সায়েদ আলীর হাতে নাতিকে তুলে দেন তিনি।

আরও পড়ুন: সব নষ্টের মূল ময়না মিয়া: বিউটির দাদা (ভিডিও)

জবানবন্দিতে ফাতেমা বেগম জানান, হত্যার দিন রাত সাড়ে ৮টার দিকে ময়না মিয়া ও বিউটির বাবা সায়েদ আলী বিউটিকে নানার বাড়ি লাখাই উপজেলার গুনিপুর এলাকা থেকে নিয়ে যায়। এই সময় তারা জানায়, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের মাধ্যমে বিষয়টি সমঝোতা হবে। সরল বিশ্বাসে তিনি বিউটিকে তাদের হাতে তুলে দেন। তার আগে ধর্ষণের শিকার বিউটিকে নিরাপত্তার কথা ভেবে নানি বাড়িতে পাঠানো হয়।

ময়না মিয়ার বরাত দিয়ে পুলিশ সুপার জানান, হত্যার কয়েক দিন আগ থেকে ময়না মিয়া সায়েদ আলীকে জানায়—যেহেতু বিউটি ‘নষ্ট’ হয়ে গেছে, তাকে কেউ বিয়ে করবে না। কোথাও বিয়ে দিতে পারবে না। অপর দুই মেয়েরও বিয়ে হবে  না—এসব বলে সায়েদ আলীকে ঘায়েল করা হয়। তখন সায়েদ আলী মেয়েকে তার নানির বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। ১৬ মার্চ সমঝোতার কথা বলে নানির বাড়ি থেকে সায়েদ আলীকে দিয়ে বিউটিকে নিয়ে আসেন ময়না মিয়া। ১৭ মার্চ তার লাশ পাওয়া যায়।

এর আগে ২১ জানুয়ারি বাবুল মিয়াসহ তার লোকজনের বিরুদ্ধে বিউটি আক্তারকে বাড়ি থেকে অপহরণ করে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে।  প্রায় ১ মাস পর বাবুল মিয়া বিউটিকে তার বাড়িতে রেখে পালিয়ে যায়। পরে ১ মার্চ বিউটি আক্তারের বাবা সায়েদ আলী বাদী হয়ে বাবুল ও তার মা ব্রাহ্মণডোরা ইউনিয়নের ইউপি সদস্য কলমচানের বিরুদ্ধে হবিগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে অপহরণ ও ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।

আরও পড়ুন: বিউটি হত্যা: ভাড়াটে খুনি ‘কামালকে’ খুঁজছে পুলিশ 

১৮ মার্চ বিউটিকে হত্যা ও ধর্ষণের অভিযোগে তার বাবা বাদী হয়ে বাবুল মিয়াসহ ২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করে শায়েস্তাগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। ২১ মার্চ পুলিশ বাবুলের মা ইউপি সদস্য কলমচান ও সন্দেহভাজন হিসেবে একই গ্রামের ঈসমাইল নামের একজনকে আটক করে। ২৯ মার্চ হবিগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসম শামছুর রহমান ভূইয়াকে প্রধান করে তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি করেন পুলিশ সুপার বিধান ত্রিপুরা। ৩১ মার্চ সিলেট থেকে বাবুলকে আটক  করে র‌্যাব। ৬ মার্চ রাতে ময়না মিয়া হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে হবিগঞ্জ আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়।

 

/এনআই/চেক-এমওএফ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম