সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার টাঙ্গুয়ার হাওরের কেটে দেওয়া নাউটানা বাঁধ সংস্কার করেছে প্রশাসন ও এলাকাবাসী। শুক্রবার বিকেল থেকে শত শত কৃষক, শ্রমিক ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ তাহিরপুর উপজেলা পরষিদের চেয়ারম্যান বাঁধটির সংস্কারের জন্য কাজ করেন। শনিবার সকাল ৯টার দিকে তারা বাঁধে বাঁশ, বস্তা, চাটাই ও মাটি দিয়ে পানি ঢুকার পথটি বন্ধ করেন। এতে রক্ষা পেল এক হাজার হেক্টর জমির ধান।
উল্লেখ্য বৃহস্পতিবার ভোরে একদল জেলে তাহিরপুর উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের গোলাবাড়ি গ্রামের কাছে নাউটানা বাঁধটি কেটে দেয়। ধারণা করা হচ্ছে হাওরে বান্দারিয়া জাল দিয়ে মাছ ধরার সুবিধার জন্য তারা এ কাজ করেছে। বাঁধ কাটার কারণে টাঙ্গুয়ার হাওরের এরালিয়াকোনা, গনিয়াকুরি, লামারগুল, টানেরগুল, নান্দিয়া, মাজেরগুল, টুঙ্গামারা, সুনাডুবি, গলগলিয়া, শামসাগর হাওরের ধান হুমকির মুখে পড়েছে।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার বিকালে টাংগুয়ার হাওরের কমিউনিটি গার্ডের সদস্য খসরুল আলম বাদী হয়ে তাহিরপুর থানায় ৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৯০ জনকে আসামি করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলার আসামি রামসিংহপুর গ্রামের তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে আনোয়ার হোসেনকে (২৮)গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
তাহিরপুর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, বাঁধ কাটার ফলে ১৫০০ কৃষকের ১০০০ হেক্টর জমির বোরো ফসল হুমকির মুখে পড়ছিল। বাধটি মেরামতের ফলে এক হাজার হেক্টর জমির ফসল এখন নিরাপদ।
তাহিরপুর উপজেলা পরিষেদের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, ‘এলাকাবাসী ও প্রশাসনের সহযোগিতায় শুক্রবার রাতদিন কাজ করে শনিবার সকালে হাওরের পানি প্রবেশ বন্ধ করা হয়েছে।’
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পূর্নেন্দু দেব বলেন, ‘বাঁধ ভাঙার ফলে যে পানি হাওরে ঢুকেছে তা টাঙ্গুয়ার হাওরের বিলগুলোতে আটকা গেছে। এতে ফসলি জমির কোনও ক্ষতি হবে না। এখনও হাওরের ফসল নিরাপদ রয়েছে। পানি আটকে দেওয়ার ফলে অন্যান্য হাওরের ফসলও নিরাপদ। তবে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব বাঁধে নজরদারি বাড়াতে বলা হয়েছে।’
তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নন্দন কান্তি ধর বলেন, ‘পুলিশ সুপার মো.বরকতুল্লাহ খানের নির্দেশে পুলিশ প্রশাসন তাহিরপুরের সব ফসল রক্ষা বাঁধের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে। যাতে আর বাঁধ কেটে দেওয়ার মতো কোনও ঘটনা না ঘটে। পুলিশ প্রশাসন এ বিষয়ে তৎপর রয়েছে।








