বজ্রপাত কেড়ে নিয়েছে রশিদের পরিবারের স্বপ্ন

হিমাদ্রি শেখর ভদ্র, সুনামগঞ্জ
০৩ জুলাই ২০১৮, ১৩:২৫আপডেট : ০৩ জুলাই ২০১৮, ১৩:৩৫

আব্দুর রশিদের পরিবার সদর উপজেলার মোল্লাপাড়া ইউনিয়নের  দেখার হাওর সংলগ্ন তীরবর্তী গ্রাম ভবানীপুর। মে মাসে হাওরে ধান কাটতে গিয়ে বজ্রাঘাতে প্রাণ হারান এ গ্রামের বাসিন্দা ৬ সন্তানের জনক আব্দুর রশিদ। দুই ছেলে ফয়েজ ও জাকির আহমদ বাদে সবাই লেখাপড়া করে। পরিবারের একমাত্র উপার্জণক্ষম সদস্য মারা যাওয়ার পর খেয়ে পরে বেঁচে থাকাই কঠিন হয়ে পড়েছে তাদের। সরকারি বা বেসরকারিভাবেও তারা কোনও সাহায্য পাচ্ছে না।

রশিদের স্ত্রী হুসনা বেগম বলেন, স্বামীর আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ছেদ পড়েছে। চার ছেলের মধ্যে বড় ছেলে তার স্বামী জীবিত থাকতেই হাওরের মাছ ধরতো। স্বামীর মৃত্যুর পর মেজো ছেলে মাদ্রাসার পড়ালেখা বাদ দিয়ে বড় ভাইয়ের সঙ্গে মাছ ধরতে যায়। সারাদিন মাছ ধরে বাজারে বিক্রি করে যা আয় হয় তা দিয়ে সংসার চলে। এ অবস্থায় বাকি চার সন্তানের লেখাপড়ার খরচ জোগানোর সামর্থ্য তাদের নেই। অথচ মেয়ে তানজিনাকে শিক্ষক বানানোর স্বপ্ন দেখতেন আব্দুর রশিদ।

আব্দুর রশিদের বাড়ি বড় ছেলে ফয়েজ আহমদ জানায়, তারা দুই ভাই ফজরের আজানের সময় জাল নিয়ে হাওরে যায় মাছ ধরতে। সারাদিন মাছ ধরে বিকালে স্থানীয় বাজারে তা বিক্রি করে যে আয় হয় তা দিয়ে সংসার চলে।

চরমহল্লা উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী তানজিনা বেগম বলে, তারা চার ভাইবোন স্কুলে লেখাপড়া করে। তাদের খাতা-কলম, স্কুলের বেতনসহ বিভিন্ন খরচ চালানোর সামর্থ্য তাদের নেই। এজন্য আগামীতে তাদের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

বজ্রপাত কেড়ে নিয়েছে রশিদের পরিবারের স্বপ্ন জেকেএম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র নূর আহমদ বলে,  বাবার মৃত্যুর পর সরকার থেকে ২০ হাজার টাকা পেয়েছিল তারা।  তা দিয়ে শিরনি করেছে। এখন তাদের হাতে কোনও টাকা নেই।

ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র আলী আহমদ জানায়, সরকার যদি তাদেরকে খাদ্য সহযোগিতা না করে, তাহলে তাদের চলতে খুব কষ্ট হবে।

আব্দুর রশিদের বাড়ি জগন্নাথপুর গ্রামের ইউসুফ আলী বলেন, ‘বজ্রাঘাতে যারা মারা গেছেন তাদের বেশিরভাগই কৃষক ও জেলে। তারা সরকার থেকে ২০ হাজার টাকা পেয়েছে। এ টাকা দিয়ে কী হয়? সরকার তাদের জন্য স্থায়ীভাবে কিছু করলে পরিবারগুলো ঘুরে দাঁড়াতে পারতো। ’

এ বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রদীপ সিংহ বলেন, বজ্রাঘাতে মৃতদের বিষয়ে সরকার খুব আন্তরিক। নিহতের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় নিয়ে আসার জন্য নির্দেশনা রয়েছে। চলতি বছরের এপ্রিল-জুলাই পর্যন্ত বজ্রাঘাতে ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার গুলোকে ৫ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা করেছে সরকার। 

 

/এসটি/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
মৌমাছির রানি হয়ে ওঠার রহস্য কী
মৌমাছির রানি হয়ে ওঠার রহস্য কী
তিন বছর নয়, এলডিসি উত্তরণ নিয়ে কীভাবে ভুল করলো দেশের প্রায় সব মিডিয়া
তিন বছর নয়, এলডিসি উত্তরণ নিয়ে কীভাবে ভুল করলো দেশের প্রায় সব মিডিয়া
অধিনায়ক হিসেবে ফিরেই জয় দেখলেন কুশল মেন্ডিস
অধিনায়ক হিসেবে ফিরেই জয় দেখলেন কুশল মেন্ডিস
মার্কিন সেনা হত্যা করলে যুদ্ধবিরতি শেষ, উপদেষ্টাদের জানালেন ট্রাম্প
মার্কিন সেনা হত্যা করলে যুদ্ধবিরতি শেষ, উপদেষ্টাদের জানালেন ট্রাম্প
সর্বাধিক পঠিত
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম