সিলেট মহানগরীর টিলাগড় এলাকা থেকে একদিনের ব্যবধানে নিখোঁজ দুই তরুণের কোনও সন্ধান মেলেনি। এরই মধ্যে এক তরুণের পরিবারের কাছে ছেলের মুক্তিপণ বাবদ ৫০ হাজার টাকা চাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
গত বুধবার (৫ সেপ্টেম্বর) নিখোঁজ হন মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের তরুণ ইমাদ উদ্দিন সুহিন (২৪)। তিনি শমসের নগরের সারাংপুর গ্রামের রফিক মিয়ার ছেলে। পরদিন বৃহস্পতিবার (৬ সেপ্টেম্বর) নিখোঁজ হন সাজ্জাদ আহমদ (২৪)। তিনি সিলেটের এমসি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। সাজ্জাদের বাড়ি হবিগঞ্জের পশ্চিম নোয়াগাঁওয়ে। তার বাবার নাম ইদ্রিস মিয়া। দুই তরুণ নিখোঁজের ঘটনায় সিলেট মহানগর পুলিশের শাহপরাণ থানায় পৃথক দুটি সাধারণ ডায়েরি করেন তাদের পরিবার। এরপর দুই তরুণের সন্ধানে মাঠে নামে পুলিশ ও র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ান-৯-এর একটি দল।
তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতার মধ্যেই সুহিনের পরিবারের কাছে ছেলেকে ফিরে পেতে ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার দাবি জানানো হয়। সুহিনের মামা হাফিজুর রহমান জানান, অপরিচিত একটি মোবাইলনম্বর থেকে ফোন করে এই দাবি করা হয়। বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও জানান, এক ভাইয়ের সাথে দেখা করতে সিলেটে এসে নিখোঁজ হন সুহিন।
এদিকে নিখোঁজ সাজ্জাদের রুমমেট ও হবিগঞ্জ জেলা ছাত্র সমন্বয় পরিষদ এমসি কলেজের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সাজ্জাদ আমার সহপাঠী। এমসি কলেজে পড়াশোনা শুরুর পর থেকেই সে আমাদের সাথে বসবাস করে আসছে। তার সাথে কলেজে কিংবা এলাকায় কারও বিরোধ নেই।
তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি দ্রুত সাজ্জাদকে খুঁজে বের করার দাবি জানান।
সিলেট মহানগর পুলিশের শাহপরাণ থানার ওসি আক্তার হোসেন জানান, টিলাগড় থেকে নিখোঁজ দুই তরুণের সন্ধান পেতে পুলিশ ও র্যাব কাজ করছে। প্রযুক্তির সহায়তায়ও তাদের খোঁজ চলছে। নিখোঁজ দুই তরুণ কি জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়েছে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পুলিশ বিভিন্ন ধারণা নিয়ে কাজ করছে। এ বিষয়টিও পুলিশের মাথায় রয়েছে। যা তদন্তের একটি অংশ বলতে পারেন।
এদিকে হঠাৎ করেই দুই তরুণ নিখোঁজের ঘটনায় সিলেট জুড়ে নানা আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তারা আসলেই নিখোঁজ নাকি তাদের কেউ অপহরণ করেছে কিংবা ভুল পথে পা বাড়িয়েছে এসব প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে জনমনে।








