সুনামগঞ্জের ৫টি নির্বাচনি এলাকায় আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা মাঠে গণসংযোগ করলেও বিএনপি প্রার্থীরা দলীয় চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার মুক্তি, নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন, নেতাকর্মীদের ওপর মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারসহ সরকার দলীয় হয়রানির ভয়ে পুরোদমে গণসংযোগ করতে পারছেন না। জেলার ৫টি আসনেই এখন এ অবস্থা বিরাজ করছে।
বিএনপির নেতাকর্মীরা বলছেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড না হলে তারা গণসংযোগে পুরোদমে মাঠে নামবেন না। তাই বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকগণ এখন মাঠে গণসংযোগ করা থেকে আন্দোলন সংগ্রামকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। সুনামগঞ্জের ৫টি আসনের বেশির ভাগই প্রত্যন্ত হাওর এলাকা নিয়ে গঠিত। দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে ভৌগলিকভাবে হাওর বেস্টিত জনপদের গ্রামগুলো বিচ্ছিন্ন এলাকায় অবস্থিত। এসব এলাকায় গণসংযোগ করা একটি ব্যয়বহুল ও পরিশ্রমসাধ্য কাজ। দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা নিয়ে একটি দুদোল্যমান অবস্থা বিরাজ করছে।
প্রার্থীরা জানান, অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের নিশ্চয়তা পেলে তারা পুরোদমে মাঠে গণসংযোগ করবেন। তাদের ভাষায় এখনো সেরকম অবস্থা তৈরি না হওয়ায় প্রার্থীরা মাঠে যেতে দিধাদ্বন্দ্বে রয়েছেন। অন্যদিকে সরকার দল বলছে, বিএনপির প্রার্থীরা মাঠে গণসংযোগ করলে কেউ তাদের বাধা দেয় না। গণসংযোগ করা না করা প্রার্থীদের একান্ত বিষয়।
জামালগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি নুরুল হক আফিন্দি বলেন, ‘সুনামগঞ্জ ১ আসনে মামলা-হামলার কারণে নেতাকর্মীরা এলাকা ছাড়া। সরকার দলীয়দের হয়রানির ভয়ে গণসংযোগের সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরে আসেনি।’
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সুনামগঞ্জ ৩ আসনে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী ফারুক আহমদ বলেন,‘তার নির্বাচনি এলাকায় দলীয় প্রার্থী নিয়ে দিধাদ্বন্দ্ব থাকায় গণসংযোগ কিছুটা ধীর গতিতে চলছে। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী দেওয়া হলে গণসংযোগে গতি ফিরে আসবে।’
সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও সুনামগঞ্জ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী আনিসুল হক বলেন,‘সুনামগঞ্জ ১ আসনে আজগুবি মামলা দিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের হয়রানি করছে সরকার। খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে ও ৭ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে বিএনপি নেতাকর্মীরা জনমত সৃষ্টি করছেন। এছাড়া ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চাইছেন তারা। গণসংযোগ ও আন্দোলন দুটোকে প্রাধান্য দিয়ে মাঠে রয়েছে বিএনপি।’
দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী প্রার্থীদের গণসংযোগ নিয়ে জেলা বিএনপির সভাপতি কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন বলেন, ‘বিএনপি একটি নির্বাচন মুখিদল। বিএনপি প্রার্থীরা দুটি বিষয়কে প্রাধান্য দিয়ে মাঠে কাজ করছে। একটি হলো গ্রহণযোগ্য নির্বাচনে জনমত তৈরি ও আগামী নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করা।’
তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান সরকারের আমলে ঘটনা ছাড়া সারা জেলায় মিথ্যা-মামলা দিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের হয়রানি করছে। যে কারণে গণসংযোগ করতে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে।’








