মৌলভীবাজারের বড়লেখায় ঘূর্ণিঝড় ফণী মোকাবিলায় ৯টি আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে । তার আগে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপজেলা জুড়ে প্রত্যন্ত এলাকায় মাইকিং করে সতর্ক করা হয়েছে।
ফণীর প্রভাবে আকস্মিক বন্যা অথবা অন্য কোনও কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হলে বন্যা আশ্রয়ন কেন্দ্রে প্রাথমিকভাবে অবস্থান নেওয়ার জন্য ওইসব এলাকার বাসিন্দাদের প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান করেছেন।
আশ্রয়কেন্দ্রগুলো হলো- বড়লেখা উপজেলার বর্ণি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,রাংগাউটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আজিমগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দ্বিতীয়ারদেহী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দাশেরবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ইসলামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, টেকাহালী উচ্চ বিদ্যালয়, ইউনাইটেড উচ্চ বিদ্যালয় ও পঞ্চগ্রাম আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়।
এছাড়া বড়লেখা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে কন্ট্রোল রুমের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। যেকোনও সমস্যায় ও জরুরি প্রয়োজনে কন্ট্রোল রুমের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার মোবাইলে ০১৭০০৭১৭১৩৯ নম্বরে কল করার জন্য বলা হয়েছে।
বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শামীম আল ইমরান বলেন, ‘৯টি আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আশ্রয় কেন্দ্র স্কুলের প্রধান শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর চাবি নিয়ে দফতরি কিংবা অন্য কেউ যাতে সার্বক্ষণিক তৎপর থাকেন সেটা বলা হয়েছে। পরিস্থিতি বুঝে আশ্রয় কেন্দ্র বাড়ানো হয়। সব ধরনেরর প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।’
এদিকে ফণীর কারণে সৃষ্ট বৃষ্টিপাতের ফলে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী, ফানাই, মনু, ধলাই নদী,কাউয়াদিঘী,হাইল হাওর, হাকালুকি হাওরে পানি বেড়ে মৌলভীবাজার জেলায় বন্যার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ড।
মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রণেন্দ্র শংকর চক্রবর্তী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। আগামী সোমবার পর্যন্ত সব ধরনের ছুটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘মনু ও ধলাই ও কুশিয়ারার পানি বৃদ্ধি পেলেও বিপদসীমার চার সেন্টিমিটার নিচে থাকবে।’
মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানিয়েছে, জেলার সাতটি উপজেলায় বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫৩ হাজার ১১৬ হেক্টর। এর মধ্যে আবাদ অর্জিত হয়েছে ৫৩ হাজার ১৬২ হেক্টর।
লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৪৬ হেক্টর ধান বেশি উৎপাদন হয়েছে। আর চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ লাখ ৯ হাজার ১৯৯ টন। তার মধ্যে প্রায় ৮০% ধান কাটা হয়েছে।
মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক মো. তোফায়েল ইসলাম বলেন,‘ঘূর্ণিঝড় ফণী’ মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে মৌলভীবাজার জেলার সব নাগরিকের প্রতি তিনি অনুরোধ জানানো হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিটি উপজেলায় ঘূর্ণিঝড় ফণীর আঘাত মোকাবিলায় পূর্ব প্রস্তুতি, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, প্রয়োজনীয় আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত ও উপজেলায় কন্ট্রোল রুম খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ফণী মোকাবিলায় শুক্র, শনি ও রবিবার পর্যন্ত সবাইকে বিশেষ সতর্ক অবস্থায় থাকার জন্য বলা হয়েছে।’








