হাঁসের বাচ্চা উৎপাদন করে দিন বদলে গেছে সুনামগঞ্জ ছাতকের নোয়ারাই ইউনিয়নের জাহানিটিলা গ্রামের বাসিন্দা রোপেজুন নেছার। তার টানাপড়েনের সংসারে এসেছে সচ্ছলতা। একসময়ের অভাব অনটন পাড়ি দিয়ে ৬ সন্তান ও স্বামী নিয়ে রোপেজুন নেছা এখন সচ্ছল ও সুন্দর জীবনযাপন করছেন ।
স্বামী সাদ মিয়া হবিগঞ্জে শ্রমিক হিসেবে কর্মরত আছেন। স্বামীর স্বল্প আয়ে সংসার চালাতে গিয়ে প্রতিদিনই হিমশিম খাচ্ছিলেন রোপেজুন। টাকা পয়সার অভাবে সন্তানদের লেখাপড়া করানো সম্ভব হচ্ছিল না। সংসারের অভাব ঘোচানোর জন্য তিনি নিজে কিছু করতে চাচ্ছিলেন। কিন্তু কী করবেন, কীভাবে শুরু করবেন কিছুই তার মাথায় আসছিল না। তখন লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশের সিএসআর কার্যক্রম পরিচালনাকারী সংস্থা এফআইডিভিডি ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের কর্মকর্তারা তাকে হাঁস পালনের পরামর্শ দেন। রোপেজুন কখনো হাঁসের বাচ্চা উৎপাদন দেখেননি, তিনি সাহস করে উঠতে পারছিলেন না। তাকে প্রশিক্ষণ গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করা হলে তিনি এ বছরের মার্চ মাসে তিন দিনব্যাপী একটি প্রশিক্ষণে অংশ নেন। তিনি হাতে কলমে প্রশিক্ষণ পেয়ে একটি হাঁসের হ্যাচারি করার সিদ্ধান্ত নেন। মার্চ মাসে ১২ তারিখে প্রথমে তিনি ২শ’ হাঁসের ডিম কেনেন। এ সময় তাকে সাবির্ক সহায়তার জন্য হাত বাড়িয়ে দেয় লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশে। কোম্পানির পক্ষ থেকে তাকে বিনামূল্যে আর ৭শ’ হাঁসের ডিম দেওয়া হয়। তিনি ৯শ’ ডিম নিয়ে কাজ শুরু করেন। গত ১০ এপ্রিল ৭২০টি ডিম থেকে বাচ্চা ফোঁটে। ১১ এপ্রিল একদিন বয়সী ৩শ’ বাচ্চা তিনি ১২০০০ (বারো হাজার) টাকা বিক্রি করেন। অবশিষ্ট বাচ্চাগুলো ২০ দিন বয়সে ৩৫ হাজার ১৫০ টাকা বিক্রি করেন।
প্রথম ব্যাচে তার নিট লাভ হয়েন ২৫ হাজার টাকা। এরপর সম্পূর্ণ নিজের টাকায় তিনি ১ হাজার ডিম কেনেন। দ্বিতীয় ব্যাচেও বাচ্চা ফুটিয়ে বিক্রি করে আয় হয় ১০ হাজার টাকা। তৃতীয় ব্যাচের ৫শ’ বাচ্চা এখন বিক্রির উপযুক্ত হয়েছে। চতুর্থ ব্যাচের ১ হাজার ডিম থেকে বাচ্চা ফোটানোর প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছেন।
রোপেজুন নেছা জানান, তিনি হ্যাচারির নাম দিয়েছেন মামুন হ্যাচারি। মামুন তার ছেলের নাম। প্রতিবেশীরা তার সফলতায় অত্যন্ত আনন্দিত। অনেকেই তার হ্যাচারি থেকে হাঁসের বাচ্চা কিনেছেন। এলাকার বাইরে থেকেও অনেকে তার সঙ্গে যোগযোগ করছেন বাচ্চা কেনার জন্য।
তিনি আর বলেন, ‘আমি অনেক খুশি। আমি লাফার্জহোলসিম এবং এফআইডিভিডি’র কাছে চিরকৃতজ্ঞ। আজকে আমি আমার সংসারের উন্নয়নে নিজে ভূমিকা রাখতে পারছি। আমার সন্তানদের লেখাপড়া করানোর সাহস ফিরে পেয়েছি।’
এ ব্যাপারে লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশের করপোরেট অ্যাফেয়ার্স ও সিএসআর ম্যানেজার হাবীবা ইসলাম জানান, লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে গ্রামীণ নারীদের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়নে কাজ করে আসছে। রোপেজুন নেছার মতো পরিশ্রমী নারীদের পাশে দাঁড়াতে পেরে লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশও গর্বিত ।







