করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে সবাই যখন ঘরবন্দি, তখন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করছেন পুলিশ সদস্যরা। পুলিশ সদর দফতরের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ৮৫৪ জন পুলিশ সদস্য করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে মৌলভীবাজার জেলা পুলিশের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে খাদ্য তালিকায় প্রতিদিন একটি করে ডিম ও আড়াইশ' গ্রাম করে দুধ রাখা হচ্ছে। মৌলভীবাজার জেলা পুলিশ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
জেলা পুলিশ সূত্র জানায়, মৌলভীবাজার পুলিশে কর্মকর্তা-সদস্য ও নন-পুলিশসহ প্রায় সাড়ে ১২শ' সদস্য রয়েছেন। ক্ষুদ্র খামারিদের কাছ থেকে ডিম কিনে পুলিশ সদস্যদের খাবারের জন্য সরবরাহ করা হচ্ছে। একইভাবে দুধও সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে জেলার ক্ষুদ্র খামারিদের উৎপাদিত পণ্যের বিপণন সংকটও কেটে যাবে বলে মনে করছে জেলা পুলিশ।
জানা যায়, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে মৌলভীবাজারের ক্ষুদ্র খামারিরা বিপাকে পড়েন। ডিম-দুধসহ অন্যান্য উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করতে পারছিলেন না তারা। এতে খামারিদের লোকসানে পড়তে হচ্ছিল। তবে পুলিশের এই উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে সংকট কেটে যাবে বলে আশা করছেন খামারিরা।
এ ব্যাপারে শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. আশরাফুজ্জামান বলেন, ‘স্যারের (পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ) এই উদ্যোগ আমরা মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। ফলে একদিকে যেমন ক্ষুদ্র খামারিদের কর্মসংস্থানের প্রক্রিয়াটি সচল রয়েছে, তেমনি জেলা পুলিশের সদস্যরাও উপকৃত হচ্ছেন।’
তিনি বলেন, 'ডিম ও দুধ স্থানীয় খামারিদের কাছ থেকে প্রতিদিন সংগ্রহ করা হচ্ছে। ফারুক আহমেদ স্যার সর্বপ্রথম ক্ষুদ্র খামারিদের রক্ষার পাশাপাশি পুলিশ সদস্যদের পুষ্টির বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য এ কার্যক্রম শুরু করেন। পরে সিলেট রেঞ্জের অন্য জেলাসহ সারা দেশে এই উদ্যোগ চালু করা হচ্ছে।’








