হবিগঞ্জের বাল্লা স্থলবন্দরের ভূমি অধিগ্রহণ নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন জটিলতা। বন্দর নির্মাণের খবরে অনেকেই উচ্চ মূল্যে জমি কিনেন প্রস্তাবিত স্থলবন্দর এলাকায়। এতে স্থানীয়দের মধ্যে অধিগ্রহণ বাবদ বেশি টাকা পাওয়ার আশা সঞ্চার হয়। কিন্তু জেলা প্রশাসন সরকারি হিসেবে জমির মূল্য নির্ধারণ করায় ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হওয়ার শঙ্কা স্থানীয় ভূমি মালিকদের।
সূত্র মতে হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট সীমান্তে ১৯৫১ সালে ৪.৩৭ একর জমির ওপর গড়ে ওঠে বাল্লা চেকপোস্ট। দীর্ঘদিন ধরে এ চেকপোস্ট দিয়েই ভারতের সঙ্গে পণ্য আমদানি-রফতানি হচ্ছে।
২০১৬ সালে ভারতের ত্রিপুরায় সীমান্ত সম্মেলনে পার্শ্ববর্তী কেদারাকোটে স্থলবন্দর প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেয় দুই দেশ। শুরু হয় স্থলবন্দর নির্মাণ প্রক্রিয়া। এদিকে বন্দর নির্মাণের খবরে অনেকেই সেখানে উচ্চ মূল্যে জমি কেনা শুরু করেন। এতে করে বাড়তে থাকে জমির দাম। ফলে স্থানীয়রা জমি অধিগ্রহণে ভালো মূল্য পাওয়ার আশায় বুক বাঁধেন। কিন্তু জেলা প্রশাসন সরকারি মূল্যের উপর ভিত্তি করে অধিগ্রহণ মূল্য নির্ধারণ করায় ন্যায্য দাম নিয়ে শঙ্কায় ভূমি মালিকরা।
স্থানীয় বাসিন্দা মহব্বত আলী জানান, লাভের আশায় এখানে ৮ শতক জায়গা ক্রয় করেছিলাম। কিন্তু সরকারি অ্যাকোয়ারে পড়ে যাওয়ায় এখন লোকশান হবে।
একই এলাকার বাসিন্দা রবি উল্ল্যা জানান, সরকার যদি জায়গার দাম না বাড়ায় তাহলে আমাদের অনেক ক্ষতি হয়ে যাবে। এখানে অন্তত পক্ষে ১ লাখ টাকা শতক হলে আমাদের কিছুটা লাভ হবে।
একই গ্রামের করিম মিয়া জানান, এটা আমাদের পূর্ব পুরুষের জায়গা। আমাদের দাবি সরকারি অ্যাকোয়ারকৃত জায়গার যেন সঠিক দাম নির্ধারণ করা হয়।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির খান জানান, যাদের জায়গা এখানে পড়েছে তারা অত্যন্ত গরিব। সরকার যদি জমি অধিগ্রহণে কম মূল্ দেয় তাহলে ভূমি মালিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
চুনারুঘাট উপজেলার বাল্লা স্থলবন্দরের আমদানি-রফতানিকরণ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাক সিরাজুল ইসলাম জানান, নানা জটিলতায় দীর্ঘ সূত্রিতায় পড়েছে স্থলবন্দর নির্মাণ কাজ । দ্রুত এর অবসান চান তারা।
চুনারুঘাট সাব-রেজিস্ট্রার প্রদীপ কুমার বিশ্বাস জানান, উপজেলার গাজীপুর মৌজায় লায়েক পতিত শ্রেণির প্রতি শতক জমির সরকারি গড় মূল্য ৬ হাজার ৭৯০ টাকা। কিন্তু ২০১৭ সালে দলিলে রেজিস্ট্রি হয় প্রায় সোয়া ৪ লাখ টাকা দরে।
হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান জানান, সরকারি বিধি মোতাবেক জমির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে প্রকৃত ভূমি মালিকদের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কোনও কারণ নেই। শিগগিরই ভূমি মালিকদের ৮ ধারা নোটিশ দিয়ে অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।








