সিলেটের জাফলংয়ের জিরো পয়েন্ট এলাকায় ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে উজ্জ্বল মিয়া (১৩) নামে এক স্কুলছাত্র নিহত হয়েছে। রবিবার (৬ ডিসেম্বর) বিকালে জিরো পয়েন্ট সংলগ্ন মায়াবী ঝরনায় এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল আহাদ জানান, উজ্জ্বলকে খুন করে তার ক্যামেরা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় দুই ছিনতাইকারীকে আটক করা হয়েছে।
উজ্জ্বল রসুলপুর গ্রামের আব্দুস ছাত্তারের ছেলে এবং স্থানীয় জাফলং আমির মিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র। পরিবারের হাল ধরতে সে লেখাপড়ার পাশাপাশি নিজ ক্যামেরা দিয়ে জাফলংয়ে ঘুরতে আসা পর্যটকদের ছবি তুলে দিতো।
পুলিশ জানায়, রবিবার (৬ ডিসেম্বর) বিকালে জাফলংয়ের জিরো পয়েন্ট সংলগ্ন মায়াবী ঝরনায় ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে আহত হয় উজ্জ্বল। গুরুতর আহতাবস্থায় তাকে জৈন্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে, বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে শ্রমিক পরিচয় দিয়ে ট্রাকে করে সিলেটে আসার পথে গুচ্ছগ্রাম থেকে পুলিশ দুই ছিনতাইকারী ট্রাকের চালক ও হেলপারকে আটক করেছে।
আটককৃতরা হলো দক্ষিণ সুনামগঞ্জের দরমপুর গ্রামের মৃত সুরুজ মিয়ার ছেলে খসরু মিয়া (১৮) এবং একই এলাকার সৈয়দ নূরের ছেলে এহসাম (২০)। এ সময় তাদের কাছ থেকে ছিনতাইকৃত ডিএসএলআর ক্যামেরা উদ্ধার করা হয়।
ওসি মো. আব্দুল আহাদ বলেন, ‘নিহত উজ্জ্বলের ক্যামেরা ছিনতাই করার জন্য তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে খসরু ও এহসাম। সংসারে হাল ধরতে লেখাপড়ার পাশাপাশি উজ্জ্বল ফটোগ্রাফার ও ট্যুরিস্ট গাইড হিসেবে কাজ করতো।’
তিনি আরও বলেন, ‘রবিবার দুপুর আড়াইটার দিকে পর্যটক বেশে খসরু ও এহসাম ছবি উঠবে বলে জিরো পয়েন্ট এলাকায় গিয়ে উজ্জ্বলের সঙ্গে চুক্তি করে। চুক্তি অনুযায়ী ছবি ওঠার কথা বলে তারা উজ্জ্বলকে নিয়ে জিরো পয়েন্ট এলাকা থেকে মায়াবী ঝরনার দিকে যায়। একপর্যায়ে সুযোগ বুঝে ওই দুই যুবক পেছন থেকে উজ্জ্বলকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে ক্যামেরা ও তার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।’








