মৌলভীবাজার সড়ক ও জনপথ বিভাগের শত কোটির বেশি টাকার মূল্যের জমি দীর্ঘদিন ধরে বেদখল হয়ে আছে। প্রভাবশালী একটি মহল এসব জমিতে স্থায়ী স্থাপনা তৈরি করে ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশা-পাশি নিয়মিত ভাড়া আদায় করছে। বেদখল হয়ে যাওয়া কোটি কোটি টাকা মূল্যের এসব জমি উদ্ধারে সড়ক বিভাগ মাঝে মধ্যে উচ্ছেদ অভিযান চালালেও এলাকাবাসীর এর তোয়াক্কা করছে না।
অভিযোগ আছে, সড়ক বিভাগের কিছু অসৎ কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে এই সব জমি বেদখল হয়ে গেছে। জমিতে গড়ে উঠা দোকান ভাড়ার একটি অংশ সওজ কর্মকর্তাদের পকেটে যায়।
সওজের হিসাবে এই এলাকার প্রায় সাড়ে সাত একর জমির ওপর ২০২টি দোকান তৈরি করা হয়েছে। এই জমির সরকারি বাজারমূল্য ৫ কোটি ৫২ লাখ ৪৩ হাজার টাকারও হলেও স্থানীয়দের দাবি এর মূল্য শত কোটি টাকার বেশি।
এছাড়াও ঢাকা-সিলেট আঞ্চলিক মহাড়কের শেরপুর বাজার-সরকার বাজার, কাজির বাজার, থানা বাজার, ত্রৈলক্ষ্য বিজয়, জুড়ির কামিনিগঞ্জ বাজার ও ভবানী গঞ্জবাজারসহ জেলার বিভিন্ন এলাকার মহাসড়কের পাশে সড়ক বিভাগের জমিতে কয়েকশ দোকান তৈরি করে ব্যবসা বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে দখলকারীরা। রাজনৈতিক পরিচয়ে এক শ্রেণীর দুর্বৃত্ত এসব দোকান তৈরি করে মাসিক ভাড়া আদায় করছে।
অভিযোগ রয়েছে,সড়ক বিভাগের কিছু কার্য সহকারী ও উপ-সহকারী প্রকৌশলী মাসোয়ারা পেয়ে এই দখলে সহযোগিতা করছে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ মৌলভীবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী উৎপল সামন্ত বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, প্রথমতো জনবল সংকট। সড়ক বিভাগ অবৈধ জমি উদ্ধারে বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দ্বারস্থ হতে হয়। এতে নানা জটিলতা ও বিলম্ব হয়। আবার কিছু দখলদার আদালতে মামলা দিয়ে উদ্ধার কাজ বিলম্বিত করে। ফলে এসব বেদখল হওয়া সরকারি জমি উদ্ধারে আমাদের নানা জটিলতার সম্মুখীন হতে হয়।
তিনি আরো বলেন, আদালতে মামলা শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমরা কোনও অভিযান চালাতে পারি না। তারপরও আমাদের চেষ্টা অব্যাহত আছে।
/জেবি/এমএসএম/
আপ-এমপি








