শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে নবাগত এক ছাত্রী র্যাগিংয়ের শিকার হয়েছেন। এ সময় ভয়ে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন। এ ঘটনার প্রতিবাদ করায় সিনিয়রদের ওপর হামলা চালিয়েছে জুনিয়র শিক্ষার্থীরা। এ নিয়ে ক্যাম্পাসে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, ছাত্রলীগের সিনিয়র নেতা ও পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
ক্যাম্পাস সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়ার ছাদে গণিত বিভাগের নবাগত এক ছাত্রীকে র্যাগিং করে একই বিভাগের ছাত্র নজরুল ইসলাম রাকিব, মাহমুদ, মোশারফ ও কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং চতুর্থ বর্ষের রাজু। এক পর্যায়ে ওই ছাত্রী অজ্ঞান হয়ে যান। এ অবস্থায় ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী আতিয়ার, মেহেদী ও ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সালমান এর প্রতিবাদ জানায়। এক পর্যায়ে রাজু ও রাকিবের নেতৃত্বে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা আতিয়ার, মেহেদী ও সালমানের ওপর হামলা করে। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকায় আবাসিক হলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি সঞ্জীবন চক্রবর্তী পার্থ ও সাধারণ সম্পাদক ইমরান খানের হস্তক্ষেপে তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, একটি মেয়েকে র্যাগ করা নিয়ে ছাত্রদের দু’পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়েছে। এ ব্যাপারে প্রক্টরিয়াল বডির অবজারভেশন বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে র্যাগিংয়ের ব্যাপারে প্রশাসন ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে রয়েছে। এ ব্যাপারে আমরা জনসচেতনতাও সৃষ্টি করছি।’
জালালাবাদ থানার ওসি আখতার হোসেন জানান, র্যাগিংয়ের সময় ভয়ে মেয়েটি অজ্ঞান হয়ে পড়ে। এ নিয়ে ছাত্রলীগের দু’পক্ষের মধ্যে বিতণ্ডা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয় বলে জানান ওসি।
/এএ/








