মনু নদীর পানিতে ডুবেছে আশ্রয়ণের ঘর, দুর্ভোগে নারী-শিশু

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
২০ জুন ২০২২, ২২:৩৬আপডেট : ২০ জুন ২০২২, ২২:৪৫

বাড়তে শুরু করেছে মৌলভীবাজারের মনু নদীর পানি। এতে সদর উপজেলার চাঁদনীঘাট ইউনিয়নে নদীর তীরে গড়ে ওঠা আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৪১টি ঘর পানিতে ডুবেছে। ভারী বর্ষণ ও উজানের মনু নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয়রা জানান, রবিবার (১৯ জুন) রাতে সদর উপজেলার চাঁদনীঘাট ইউনিয়নের মনু নদীর পাড়ে গড়ে ওঠা আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলোতে নদীর পানি ঢুকে পড়ে। পানি কোমরের ওপরে উঠে যাওয়ায় শিশু, বৃদ্ধ, নারী সবাই পার্শ্ববর্তী মনু নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধে আশ্রয় নিয়েছেন। রাতেই সব ঘরের লোকজন নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যান।

খবর পেয়ে, জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান ও চাঁদনীঘাট ইউপি চেয়ারম্যান আখতার উদ্দিন এলাকা পরিদর্শন করেছেন। 

তবে সরকারিভাবে কোনও সহযোগিতা পাননি বলে জানান রুমা বেগম, রহিম মিয়াসহ অনেকে।

অন্যদিকে স্থানীয় চাঁদনীঘাট ইউপি চেয়ারম্যান আখতার উদ্দিন বলেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুর্ভোগে পড়া লোকজনদের পাশের মাইজপাড়া দাখিল মাদ্রাসায় আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। প্রত্যেক পরিবারকে চাল, ডাল, তেল ইত্যাদি দেওয়া হয়েছে। এখন তারা নিরাপদে আছেন।

মৌলভীবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরিনা রহমান বলেন, আমরা খোঁজ খবর রাখছি। তারা এখন নিরাপদে আছেন। সরকারিভাবে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।

মৌলভীবাজার পানি উন্নয়নের বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আখতারুজ্জামান বলেন, মনু নদীর পানি যে কোনও সময় বিপৎসীমা অতিক্রম করবে। নদীর পানি চাঁদনীঘাট পয়েন্টে বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আ রেলব্রিজ পয়েন্টে বিপৎসীমার ৪৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। শেরপুরে কুশিয়ারা নদীর পানি ২৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ধলাই নদীর পানি ৭১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে শেওলা পয়েন্টে কুশিয়ারা নদী ৬৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান বলেন, মনু নদীর চাঁদনীঘাট এলাকা পরিদর্শন করেছি। আশপাশের সবাইকে সর্তক থাকার জন্য বলেছি। তিনি আরও বলেন, বন্যাকবলিত খলিলপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করেছি এবং বন্যাদুর্গতদের সঙ্গে কথা বলেছি। তাদেরকে শুকনো খাবার দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

জেলা প্রশাসনের সূত্রে জানা গেছে, জেলায় ১০১টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে নারী, পুরুষ ও শিশু মিলে ২৪ হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। এছাড়া গরু-ছাগল ও ভেড়া মিলে ১৫শ’ গবাদিপশুরও ঠাঁই হয়েছে এসব কেন্দ্রে। এছাড়া মেডিক্যাল টিম কাজ করছে। জেলার সাতটি উপজেলার ৪২টি ইউনিয়নে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন চার লাখ মানুষ। ১০৩০টি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া চার হাজার ২০০ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখন পর্যন্ত বন্যার পানিতে তিন জনের মৃত্যুর তথ্য জানা গেছে। 

 

/টিটি/
সম্পর্কিত
সাত নদীর পানি বিপদসীমার ওপরে, নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতির শঙ্কা
বন্যা-জলাবদ্ধতায় ফসলহানি: হাওর রক্ষায় টেকসই পরিকল্পনার আহ্বান
‘পানিতে পচে গেলো কষ্টের ফসল, সারা বছর খাবো কী’
সর্বশেষ খবর
পুষ্টিগুণে ভরপুর পাঁচমিশালি সবজি ঘণ্ট
পুষ্টিগুণে ভরপুর পাঁচমিশালি সবজি ঘণ্ট
একদিনে হামে আর ৪ মৃত্যু
একদিনে হামে আর ৪ মৃত্যু
ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নে মার্কিন চাপ মানছে না ওমান
ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নে মার্কিন চাপ মানছে না ওমান
বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে ইউজিসি-ইউএন উইমেন উদ্যোগ
বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে ইউজিসি-ইউএন উইমেন উদ্যোগ
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী