নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার খারনৈ ইউনিয়নের বামনগাঁও গ্রামে ইউনিয়নের ওয়ার্ড বিএনপির সভায় হামলা হয়েছে। শনিবার বিকালে স্থানীয় যুবলীগের নেতাকর্মীরা এই হামলা করেছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপির নেতারা।
এতে ওয়ার্ড বিএনপির আহ্বায়ক মো. গেদু মিয়াসহ কমপক্ষে ১০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত গেদু মিয়া ও ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি এরশাদ আকুঞ্জিকে পাশের দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
কলমাকান্দা বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, জেলার কলমাকান্দা উপজেলায় ওয়ার্ড বিএনপির কমিটি গঠন নিয়ে উপজেলার খারনৈ ইউনিয়নের বামনগাঁও গ্রামে ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. আবদুল লতিফের বাড়িতে শনিবার বিকালে আলোচনা সভা শুরু হয়। একপর্যায়ে সন্ধ্যায় ইউনিয়ন যুবলীগের আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম ও যুগ্ম আহ্বায়ক হারুন মণ্ডলের নেতৃত্বে ৩০-৩৫ জন হামলা চালায়। এতে খরনৈ ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক মো. গেদু মণ্ডল, উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আক্কাস আলী, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কলি আক্তার, ডা. আবদুল লতিফ, ইউপি সদস্য আবদুল খালেক, মো. কাসেম মিয়াসহ কমপক্ষে ১০ জন নেতাকর্মী আহত হন।
এ সময় বেশ কিছু চেয়ার, টেবিল ও কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। আহতদের কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিতে বাধা দেয় হামলাকারীরা। পরে এলাকাবাসী ও সহকর্মীরা গুরুতর আহত গেদু মিয়া ও ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি এরশাদ আকুঞ্জিকে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।
কেন্দ্রীয় বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল জানান, স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা খারনৈ ইউনিয়নে ওয়ার্ড বিএনপির কমিটি গঠন নিয়ে আলোচনায় বসেছিল। সেখানে সরকারদলীয় লোকজন হামলা চালায়। এতে আমাদের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন।
খারনৈ ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক হারুন মণ্ডল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বিএনপির লোকজনকে কোনও সভা সমাবেশ করতে নিষেধ করা হয়েছিল। তারা নিষেধ না মেনেই সভা করছিল। আমাদের ছেলেরা তাদের না করতে গেলে উল্টো ক্ষিপ্ত হয়। আমাদের ছেলেদের সঙ্গে মারামারিতে লিপ্ত হয়। পরে আমরা ওদের সেখান থেকে তাড়িয়ে দেই। কোনও ধরনের হামলা করা হয়নি।
কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুল আহাদ খান জানান, হামলার ঘটনার কথা শুনেছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।









