গণসমাবেশের মধ্য দিয়ে এবার সিলেটে ইতিহাস গড়তে চায় বিএনপি। এ জন্য নগরজুড়ে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা গণসংযোগ, প্রচার মিছিল, লিফলেট বিতরণসহ নানা কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছেন। সেই সঙ্গে এই গণসমাবেশে ব্যাপক লোকসমাগমের টার্গেট নিয়ে মাঠে নেমেছেন দলটির জ্যেষ্ঠ নেতারা। গণসমাবেশে নেতাকর্মীদের থাকা-খাওয়ার জন্য সিলেটে নগরীতে ১০টি কমিউনিটি সেন্টার বুকিং করা হয়েছে।
এ ছাড়া আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে নেতাকর্মীদের থাকার জন্য আরও ১০টি তাঁবুর ব্যবস্থা করা হয়েছে। গণসমাবেশকে কেন্দ্র করে সিলেট বিএনপি নেতাদের রাত-দিন একাকার। সকাল থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে প্রচারণা। আগামী শনিবারের (১৯ নভেম্বর) বিভাগীয় গণসমাবেশ সফল করতে এই ব্যস্ততা তাদের। নগরীর পাড়া-মহল্লা থেকে বিভিন্ন উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকা পর্যন্ত ছুটছেন তারা। দলীয় সমাবেশকে সর্বজনীন কর্মসূচিতে রূপ দিতে তারা বোঝাচ্ছেন সাধারণ মানুষকে।
জানা গেছে, চাল, ডাল, জ্বালানি তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ, সারসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদ এবং বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে করা এই গণসমাবেশে যোগ দিতে তারা সর্বসাধারণকে উদ্বুদ্ধ করছেন। গণসমাবেশে চার লক্ষাধিক মানুষের উপস্থিতির টার্গেট নিয়েছেন দলের নেতারা। সর্বকালের সর্ববৃহৎ সমাবেশ করে সিলেটে ইতিহাস গড়তে চান তারা।
সিলেটে বিএনপির গণসমাবেশ সফলের জন্য যে ছয়টি কমিটি করা হয়েছে, এর একটি হলো আবাসন ব্যবস্থাপনা। এই কমিটির আহ্বায়ক হলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য ও সিলেট সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। তার পক্ষ থেকে শহরের কমিউনিটি সেন্টারগুলো বুকিং দেওয়া হয়েছে। সিলেট নগরীর সোবহানীঘাট এলাকার আগ্রা, কুমারপাড়া এলাকার মালঞ্চ, ইলেকট্রিক সাপ্লাই এলাকার নূরে আলা, দক্ষিণ সুরমার ময়ূরকুঞ্জসহ ১০টি কমিউনিটি সেন্টার ভাড়া করেছে বিএনপি। আগেভাগে সমাবেশে যোগ দিতে আসা নেতাকর্মীদের রাখা হবে এসব সেন্টারে। সেন্টারগুলো শুধু সমাবেশের আগের দিন শুক্রবার রাতের জন্য ভাড়া নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, প্রায় ১০ বছর আগে সরকারি আলিয়া মাদ্রাসার মাঠে নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীর ডাকে ২০১২ সালে সবচেয়ে বড় সমাবেশ করেছিল বিএনপি। তখন কয়েক লাখ মানুষের সমাগম ঘটলেও এবার চার লাখ লোকের সমাগম হবে বলে আশা নেতাকর্মীদের।
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, শনিবার সিলেটে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সমাবেশ হবে। সমাবেশে চার লাখ মানুষের সমাগম ঘটাতে দিনরাত কাজ করছেন নেতারা। কোনও বাধাই মানুষকে আটকাতে পারবে না। সরকারের প্রতি অনাস্থা জানাতে বাধার প্রাচীর ডিঙিয়ে মানুষজন সিলেটের আলিয়া মাদ্রাসা ময়দানে ছুটে আসবেন।
আপ্যায়ন কমিটির দায়িত্বে থাকা মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি নাসিম হোসাইন বলেন, প্রচারণাকালে সিলেটের সাধারণ মানুষের যেভাবে সাড়া পাওয়া গেছে, তাতে এই গণসমাবেশে মানুষের ঢল নামবে। ওইদিন পুরো সিলেট জনসমুদ্রে পরিণত হবে। এটা হবে সিলেটের স্মরণকালের বিশাল গণসমাবেশ।
তিনি বলেন, নেতাকর্মীদের থাকা-খাওয়ার জন্য ইতোমধ্যে নগরীতে প্রায় ১০টি কমিউনিটি সেন্টার ভাড়া করা হয়েছে। সেই সঙ্গে মাঠেও তাঁবুর ব্যবস্থা করা হয়েছে। কতজন লোকের খাবারের ব্যবস্থা করা হবে তা এখন চূড়ান্ত হয়নি।









