ঋণের দায় থেকে বাঁচতে নিজেকে হত্যার নাটক সাজান নাহিদ

সিলেট প্রতিনিধি
০৩ এপ্রিল ২০২৩, ১৯:১৪আপডেট : ০৩ এপ্রিল ২০২৩, ১৯:১৪

সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার মাথিউরা ইউনিয়নের পূর্বপার গ্রামের একটি বাড়িতে তত্ত্বাবধায়কের চাকরি করতেন মো. নাহিদ ইসলাম। ২৮ বছর বয়সী এই যুবক যে ঘরে থাকতেন শুক্রবার (৩১ মার্চ) ভোরে সে ঘরের মেঝে বিছানায় এবং বারান্দায় লাল ছোপ ছোপ রক্তের দাগ দেখতে পাওয়া যায়। এর পর থেকে তার কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছিল, নাহিদ খুন হয়েছেন। তবে পুলিশি তদন্তে জানা গেছে নাহিদ খুন হননি। ঘরের ভেতরে পড়ে থাকা রক্তজাতীয় তরল আর নাহিদের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি পুরোপুরি সাজানো। পুলিশি তদন্তে আরও বেরিয়ে এসেছে, এমনকি তার নাম-পরিচয়ও সঠিক নয়।
 
নাহিদের প্রকৃত নাম মো. তাজুল ইসলাম। তার বাড়ি নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার বড়ভিটা পূর্বপাড়া গ্রামে। প্রায় ১৪ বছর আগে বাড়ি থেকে পালিয়ে বিয়ানীবাজারে এসেছিলেন তাজুল। বিয়ানীবাজারে আসার পর থেকে আর কখনও বাড়িতে যাননি। এর মধ্যে বিয়ানীবাজার আসার পর জাতীয় পরিচয়পত্রে নিজের নাম পাল্টে রাখেন ‘নাহিদ ইসলাম’। স্থায়ী ঠিকানাও বদলে ফেলেন সেখানে। অবশ্য মা-বাবার নাম ঠিকই রেখেছিলেন।

শনিবার সন্ধ্যায় নরসিংদী থেকে নাহিদকে আটক করেছে পুলিশ। আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, জুয়া খেলে তিনি ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন। ঋণের টাকার পরিশোধ এড়াতে তিনি খুন হওয়ার নাটক সাজিয়ে পালিয়ে যান। রবিবার (২ মার্চ) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সিলেটের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার বলেন, ‘শুক্রবার বিয়ানীবাজারের মাথিউরা ইউনিয়নের পূর্বপার গ্রামের আবদুল হেকিমের বাড়ির তত্ত্বাবধায়ক নাহিদের ঘরের বিছানা ও মেঝেতে রক্তজাতীয় পদার্থ পাওয়া যায়। বিষয়টি প্রথমে হত্যাকাণ্ড হিসেবে ধারণা করে পুলিশ তদন্ত করছিল। একই সঙ্গে নিহত ব্যক্তির লাশ উদ্ধারের জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের চাপ দিচ্ছিলেন। তবে তদন্তে জানা যায়, ঘটনাটি সাজানো। রক্তজাতীয় যে পদার্থ পাওয়া গেছে, সেটি আসলে ছিল রং। ওই তরল পদার্থ ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা করেও সেখানে রক্তের সুনির্দিষ্ট অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। ওই দিন পুলিশ ওই ঘর থেকে একটি বালতি, মগ ও কাঠি উদ্ধার করেছে। ওই বালতি ধুয়ে ফেলা হলেও কাঠিসহ মগে কিছুটা লাল রং পাওয়া গিয়েছিল। এর পর থেকে তথ্যপ্রযুক্তির সহযোগিতায় পুলিশ নাহিদকে খুঁজতে থাকে। পরে পুলিশের অভিযানে নাহিদকে উদ্ধার করা হয়েছে।’

পুলিশ জানায়, তাজুল কলেজে পড়া অবস্থায় বন্ধুদের সঙ্গে মারামারির সময় একজন মারা গেলে তিনি বাড়ি থেকে পালিয়ে আসেন। এরপর আর বাড়ি ফেরেননি। প্রায় তিন বছর আগে বাবার মৃত্যু হলেও বাড়িতে পুলিশ আছে, এমন তথ্য পেয়ে আর যাননি। নাহিদ যে ঘরে থাকতেন, সেখান থেকে একটি ডায়েরি উদ্ধার করা হয়েছে। সেখানে বিভিন্নজনের কাছে তার ঋণ নেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। নাহিদ নিখোঁজের এক দিন আগে বিয়ানীবাজারে তার মোবাইলফোন বিক্রি করে দেন। পরে ওই মোবাইলফোন উদ্ধার করা হয়। সেখান থেকে অনলাইনে জুয়া খেলার বিষয়ে বেশ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। মূলত জুয়া খেলে নাহিদ বিভিন্নজনের কাছ থেকে ঋণ নিয়েছিলেন।

পুলিশ সুপার বলেন, ‘নাহিদ তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে যা বেতন পেতেন, সেটি দিয়ে জুয়ার টাকা জোগান দিতে পারছিলেন না বলে তিনি ঋণ নিয়েছিলেন। ওই টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় নাহিদ নাটক সাজিয়েছিলেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত করে জানা গেছে, নিখোঁজের আগে নাহিদ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ খুঁজছিলেন। ওই তথ্যের সূত্র ধরে নরসিংদী থেকে তাকে শনিবার (১ মার্চ) আটক করা হয়। তবে তার বিরুদ্ধে পুলিশ আপাতত কোনও আইনি ব্যবস্থা নেয়নি। অনেক পাওনাদার পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। কেউ লিখিত অভিযোগ করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

/এফআর/
সম্পর্কিত
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
কিশোর গ্যাং ধরে তাবলীগে পাঠাবো: পুলিশ সুপার
সর্বশেষ খবর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম