মৌলভীবাজার পৌর শহরের কুসুমভাগ বড়হাট এলাকার খান্দানি রেস্টুরেন্টে তানিম আহমদ (১৩) নামের এক কর্মচারীকে মারধর করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জালাল (৪৫) নামের ওই রেস্টুরেন্টের এক কর্মচারীকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয়রা।
শনিবার (২৪ জুন) রাত ৮টার দিকে ওই রেস্টুরেন্টে ঘটনাটি ঘটে। তানিমের বাড়ি জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের রায় পরাণ গ্রামে। তার বাবার নাম মুহিব মিয়া।
জানা গেছে, রেস্টুরেন্টের অপর কর্মচারী পান দোকানের দায়িত্বে থাকা বদরুলের (৪০) ছোট ভাই আজিজুলের (১৮) সঙ্গে তানিমের কথা কাটাকাটি হয়। এ সময় কাঠের টুকরা দিয়ে তানিমকে মারধর করেন বদরুল।
অভিযোগ উঠেছে, কয়েকদিন আগে তানিম এবং ওই রেস্টুরন্টের কর্মচারী জালালের মধ্যে কাজের সময় কথা কাটাকাটি হয়। ওই সময় তানিম হাতে থাকা ব্লেড দিয়ে জালালের হাতে আঁচড় দেয়। এই ঘটনা মীমাংসা করে দেওয়া হলেও ক্ষোভ থেকে যায় জালালের। ওই ঘটনায় ক্ষিপ্ত জালাল পান দোকানির সঙ্গে আঁতাত করে এ ঘটনা ঘটান। এ সময় অন্য সহকর্মীরা তার কান্নার আওয়াজ পেয়ে এগিয়ে গেলে এই ঘটনা তার পরিবার ও অন্যদের জানাতে চাইলে বাধা দেয় আজিজুল, কর্মচারী জালাল ও ম্যানেজারসহ অন্যরা। তার অবস্থার অবনতি হলে বাধ্য হয়ে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলারেল হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে আবারও রেস্টুরেন্টে নিয়ে কক্ষে তালাবদ্ধ করে রাখেন ম্যানেজার ও ঘটনার সঙ্গে জড়িতরা। ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে অন্য কর্মচারীদের সতর্ক করে তানিমের অভিভাবক কিংবা অন্য কাউকে ফোন করতেও নিষেধ করা হয়। পরে তানিমকে উদ্ধার করে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে জানান।
তানিমের মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে রেস্টেুরেন্টের অন্য কর্মচারীরা পালিয়ে যায়। ওই রেস্টুরেন্টে ১৮ জন কর্মচারীর মধ্যে অধিকাংশই বয়সে কিশোর। ওই ঘটনার বক্তব্য নিতে ম্যানেজার বা মালিকপক্ষ কাউকে মুঠোফোনে বা রেস্টুরেন্টে পাওয়া যায়নি।
নিহতের মামাতো ভাই জমসেদ মিয়া বলেন, ‘আহত অবস্থায় তানিম আমাকে বলে রেস্টুরেন্টের কর্মচারী জালাল ও পাশের পান দোকানদার বদরুল ও আজিজুল মিলে তাকে মারধর করেছে। খবর পেয়ে তানিমের বাবা, রেস্টুরেন্টের ম্যানেজার সবুজ ও আমি মিলে তাকে ঘটনাস্থল থেকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যাই। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। রবিবার দুপুর ২টায় তানিম মারা যায়।’
মৌলভীবাজার মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মশিউর রহমান বলেন, ‘জালাল নামের একজনকে আটক করা হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত করছি। পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও কেউ অভিযোগ করেনি।’









