হ্যান্ড বিলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি ব্যবহার করায় বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে হবিগঞ্জ-৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমনকে দ্বিতীয়বারের মতো শোকজ করেছে জেলা নির্বাচনি অনুসন্ধান কমিটি। হবিগঞ্জ সদর আদালতের সিনিয়র সহকারী জজ সবুজ পাল স্বাক্ষরিত এক পত্রে তাকে শোকজ করেন।
গত ২৭ ডিসেম্বর হবিগঞ্জ-৪ আসনের নৌকার সমর্থক আব্দুল হাই জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।
অভিযোগে বলা হয়- আসন্ন সংসদ নির্বাচনে হ্যান্ডবিলে জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি ব্যবহার করেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার সৈয়দ সাইদুল হক সুমন। যা নির্বাচনি আচরণ বিধি লঙ্ঘন। এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ৩১ ডিসেম্বর অনুসন্ধান কমিটি তাকে শোকজ করে আগামী ২ জানুয়ারি লিখিতভাবে জবাব দেওয়ার জন্য বলেছেন।
শোকজে উল্লেখ করা হয়, সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন আপনি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঈগল প্রতীকের একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী। আপনাকে জানানো যাচ্ছে যে, বিগত ২৭ ডিসেম্বর জনৈক আব্দুল হাই প্রিন্স নিজেকে নৌকা প্রতীকের কর্মী ও সমর্থক দাবি করে আপনার বিরুদ্ধে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা বরাবর অভিযোগ করেন যে, আপনি আপনার নির্বাচনি এলাকায় বিলি করা পোস্টারে আইন বিরুদ্ধভাবে জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি ব্যবহার করেন।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা অভিযোগ পেয়ে নমুনা পোস্টারসহ ওই অভিযোগ ৩১ ডিসেম্বর নির্বাচন অনুসন্ধান কমিটির কাছে উপস্থাপন করেন। নমুনা পোস্টার পর্যালোচনা করে কমিটির কাছে প্রতীয়মান যে, রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণবিধি ২০০৮ এর বিধি ৭ মোতাবেক প্রার্থীর ব্যানার ও পোস্টারে নিজের ছবি ও প্রতীক ও দলীয় প্রার্থী হলে একই সঙ্গে দল প্রধানের ছবির বাইরে অন্য কারও ছবি ব্যবহার করা যাবে না। এমন বিধান থাকলেও প্রার্থী বঙ্গবন্ধুর ছবি ব্যবহার করে উল্লেখিত বিধি লঙ্ঘন করেছেন।
এমতাবস্থায় আচরণবিধি লঙ্ঘন করায় ২ জানুয়ারির মধ্যে নিজে অথবা প্রতিনিধির মাধ্যমে লিখিত জবাব দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করা হলো।
এদিকে, গত ২ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় চুনারুঘাট উপজেলার গাজীপুরের আসামপাড়া বাজারে এক নির্বাচনি জনসভা করেন ব্যারিস্টার সুমন। প্রথমত, বাজারটি জনাকীর্ণ। দ্বিতীয়ত, ওই নির্বাচনি সমাবেশের জন্য বাজারের তিন রাস্তার মোড়সহ বাজারের ওপর দিয়ে চলাচলকারী প্রধান তিনটি সড়ক বন্ধ করে জনগণের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করা হয়। তৃতীয়ত, ওই নির্বাচনি সমাবেশের বিষয়ে স্থানীয় পুলিশ কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়নি। এসব কারণে তাকে চলতি নির্বাচনে প্রথম শোকজ করা হয়েছিল।









