প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ধোপাজান নদী থেকে একটি বালুখেকো সিন্ডিকেট দিনে ও রাতে অবৈধভাবে বালু-পাথর উত্তোলন করছে। সেগুলো দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহ করে রাতারাতি কোটি কোটি টাকার মালিক বনে যাচ্ছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা-জেলা প্রশাসন, পুলিশসহ অন্যান্য বাহিনীর লোকজন প্রায়ই অভিযান চালান। বড় বড় নৌকাও জব্দ করেন এবং যথারীতি মামলা দায়ের করেন। কিন্তু আইনের ফাঁক গলিয়ে নৌকা ছাড়িয়ে পুনরায় একই কায়দায় বালু-পাথর উত্তোলন করা হয়। এ নিয়ে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভাসহ নানা ফোরামে কথা ওঠে। এমনকি পরিবেশবাদী সংগঠনের পক্ষ থেকেও সভা-সমাবেশ হয়। তারপর ও থেমে নেই অবৈধ বালু-পাথর উত্তোলন ও পরিবহন।
অতি সম্প্রতি সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ধোপাজান নদীর মোহনা থেকে অবৈধ বালু-পাথর উত্তোলন ও পরিবহন প্রতিরোধের জন্য সুরমা নদীর মোহনা থেকে অর্থাৎ চলতি নদীর প্রবেশমুখ থেকে উত্তর সীমান্ত খাসিয়া পাহাড় পর্যন্ত অংশে সকল ধরনের বাল্কহেড নৌকাসহ বালু পরিবহনে ব্যবহৃত জলযান প্রবেশ নিষিদ্ধ করে একটি আদেশ জারি করেন। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। আবারও সেই অবৈধ কাজ-কারবার চলে। তারই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার (১৮ অক্টোবর) জেলা প্রশাসকের নির্দেশে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অতীশ দর্শী চাকমা, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইসমাইল রহমান, তহশিলদার ছিদ্দিকুর রহমান, পুলিশ-ডিবিসহ দিনভর সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সুরমা নদীর মোহনা থেকে চলতি নদীর প্রবেশ মুখে বাঁশের বেড়া দেন। যাতে অবৈধভাবে উত্তোলন করা বালু-পাথর পরিবহনে নৌকা যাতায়াত করতে না পারে।
এতেও কাজ হয়নি ইউএনও, এসিল্যান্ড ও তহশিলদার চলে আসার পর সন্ধ্যার পর আবারও নদীতে নৌকা ঢুকতে শুরু করে। বিষয়টি জেলা প্রশাসককে জানালে তিনি বলেন, ‘আমাদের চেষ্টার কোনও কমতি নেই, নানা পন্থা অবলম্বন করছি কিন্তু কাঙ্ক্ষিত সুফল পাচ্ছি না। আমি দেখছি কী করা যায়।’
এলাকাবাসীর অভিযোগ, এখানে একটি চেকপোস্ট রয়েছে। তারপরও কেন এসব থামে না? নিশ্চয়ই সরিষায় ভূত আছে!









