সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচনে অঙ্গীকারনামার শর্ত প্রত্যাখ্যান করে নির্ধারিত তারিখে নির্বাচনের দাবিতে স্মারকলিপি দিয়েছেন প্রার্থীরা। বুধবার বিকাল ৪টায় সেন্টার অব এক্সিলেন্স ভবনের সামনে শাকসুর প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে স্মারকলিপিটি তুলে দেন বিভিন্ন প্যানেল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। স্মারকলিপিতে ৭৬ জন প্রার্থী স্বাক্ষর করেছেন।
শাকসুর প্রধান নির্বাচন কমিশনার আবুল মুকিত মোহাম্মদ মোকাদ্দেছ বলেন, ‘যথাসময়ে নির্বাচনের জন্য প্রার্থীরা স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন। স্মারকলিপিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। কারণ, সেখানে একটি সরকারি প্রজ্ঞাপনের স্মারক নম্বর দেওয়া আছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নির্বাচন কমিশনে (ইসি) পাঠাবে। ২০ জানুয়ারি শাকসু নির্বাচন হবে—এমন প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করছি আমরা। কারণ প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যক্রম স্থগিতের কথা বলা হয়নি।’
এর আগে বেলা ১১টা থেকে ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, স্বতন্ত্র প্যানেল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা স্মারকলিপিতে সই করেন। এতে ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেল ‘সম্মিলিত সাস্টিয়ান ঐক্যের’ সহসভাপতি (ভিপি) প্রার্থী মুস্তাকিম বিল্লাহ, ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল ‘দুর্বার সাস্টিয়ান ঐক্যের’ ভিপি প্রার্থী দেলোয়ার হাসান, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্যানেল ‘সাধারণের ঐক্যস্বর’ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী মুহয়ী শারদ ও স্বতন্ত্র ভিপি প্রার্থী মুমিনুর রশীদের স্বাক্ষর আছে। বিকাল ৪টায় নির্বাচন কমিশনারের হাতে স্মারকলিপি তুলে দেন প্রার্থীরা।
স্মারকলিপিতে প্রার্থীরা লিখেছেন, ১২ জানুয়ারি বাংলাদেশ জাতীয় নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি প্রজ্ঞাপনকে কেন্দ্র করে আসন্ন শাকসু নির্বাচনের পথে বাধা তৈরি হয়েছে। নির্বাচন কমিশন থেকে মনে করা হচ্ছে, শাকসু নির্বাচন জাতীয় নির্বাচনে বিরূপ প্রভাব ফেলবে। আমরা শাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীগণ মনে করি যে জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে শাকসু নির্বাচনের কোনও ধরনের সংশ্লিষ্টতা ও সাংঘর্ষিকতা নেই। আসন্ন শাকসু নির্বাচন কোনোভাবেই জাতীয় নির্বাচনকে প্রভাবিত করবে না।
স্মারকলিপিতে প্রার্থীরা আরও উল্লেখ করেন, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অঙ্গীকারনামা বা মুচলেকা চাওয়া কোনোভাবেই সম্মানজনক নয়। আমরা এ ধরনের পদক্ষেপ প্রত্যাখ্যান করি। এজন্য আমরা বিশ্বাস করি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্ণ সদিচ্ছা ও দায়িত্বশীল ভূমিকার মাধ্যমে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে কোনও বাধা নেই। সুতরাং আমরা পূর্বনির্ধারিত সময়ে (২০ জানুয়ারি) যেকোনো কর্তৃপক্ষ থেকে নতুন কোনও শর্ত আরোপ ছাড়াই শাকসু নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানাই।
স্বতন্ত্র প্যানেলের ভিপি প্রার্থী মুহয়ী শারদ বলেন, ‘আমাদের দাবি—তিনটি শর্ত বা অঙ্গীকারনামা যেন পুরোপুরি পরিহার করা হয়। সার্বিক নিরাপত্তা দেওয়া আমাদের দায়িত্ব নয়। আমরা প্রার্থীরা সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবো প্রশাসনকে নিরাপত্তার ক্ষেত্রে। এ ছাড়া কোনও ঘটনা ঘটলে এর দায়ভার নিতে হবে প্রশাসনকে। এজন্য আমরা স্মারকলিপি দিয়েছি।’
এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য মো. সাজেদুল করিম বলেন, ‘গতকাল রাতে প্রার্থীরা এসেছিল। তারা অঙ্গীকারনামা না দিয়ে স্মারকলিপি বা আবেদন দিতে চাচ্ছিল। আমি বলেছি, তোমরা শাকসু নির্বাচন কমিশনারের মাধ্যমে কিছু একটা দিলে আমরা ইসিতে পাঠাবো। তারা দেরিতে স্মারকলিপি দিয়েছে, সেটা ইসিতে পাঠানোর কাজ চলছে। আজ রাতে অনলাইনে ও আগামীকাল হার্ড কপি পাঠানো হবে।’
গত সোমবার রাতে নির্বাচন কমিশনের এক প্রজ্ঞাপনে ১২ ফেব্রুয়ারির আগে দেশে সব ধরনের নির্বাচন স্থগিতের নির্দেশনা দেওয়া হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে ওই দিনই শাকসু নির্বাচনের প্রার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামেন। আন্দোলনের পর ইসির সঙ্গে বৈঠকের বরাত দিয়ে শর্তসাপেক্ষে নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য সাজেদুল করিম।
শর্ত তিনটির মধ্যে আছে—নির্বাচনকালে কোনও ধরনের সহিংসতা ঘটবে না, নির্বাচনের আগে ও পরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কোনও অবনতি হবে না এবং এই নির্বাচন কোনোভাবেই জাতীয় নির্বাচনে বিরূপ প্রভাব ফেলবে না।









