
দুইদিন বৃষ্টি না হওয়ায় মৌলভীবাজারের বড়লেখায় হাকালুকি হাওর পারের হাজার হাজার কৃষক স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন। কারণ গত কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে শতাধিক হেক্টর জমির আধ পাকা বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গিয়েছিল। বৃষ্টি না হওয়ায় এ ধান জেগে ওঠায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে।
বড়লেখা উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, হাকালুকি হাওরসহ উপজেলায় এবার ৪ হাজার ৪২০ হেক্টরে বোরো ধানের আবাদ করা হয়। মৌসুমি বৃষ্টিপাতসহ অনুকূল আবহাওয়ায় ধানের বাম্পার ফলন হয়। কিন্তু এপ্রিলের শুরুতে ভারী বৃষ্টিপাত, পাহাড়ি ঢল আর কালবৈশাখী ঝড়ে আধা পাকা ধান মারাত্মক হুমকিতে পড়ে। শতাধিক হেক্টরের ফসল বানের পানিতে তলিয়ে যায়। এছাড়া হাজার হেক্টরের আধা পাকা ধান তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়।
কৃষক শাহীন আহমদ ও ইকবাল হোসেন জানান, গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে হাকালুকির পাতাকুরা, বড়ধলিয়া, বরোকুরি, ছিকনউটি, পলোভাঙ্গা (আংশিক), মিমকুরি ও হাওরখাল বিলের (আংশিক) প্রায় একশ’ হেক্টরের আধা পাকা ধান তলিয়ে যায়। দুইদিন ধরে ভারী বৃষ্টি না হওয়ায় পানি কমতে শুরু করেছে।
হাকালুকি হাওরের পূর্বপাড়ের সুজানগর এলাকায় পানি কমে যাওয়ায় ধান কাটার ধুম পড়ছে। পানিতে ধান কিছুটা নষ্ট হলেও অনেকটা উৎসব আমেজে কৃষকরা অতিরিক্ত শ্রমিক লাগিয়ে ধান কাটছেন।
কৃষক মোক্তার আলী, সায়েদ আহমদ, ফখরুল ইসলাম জানান, দুইদিন পানি তলিয়ে থাকার পর শুক্রবার সকালে ধান জেগে ওঠার পরই তারা তা কাটা শুরু করেছেন। ধানের কিছুটা ক্ষতি হলেও আর বৃষ্টিপাত না হলে পুষিয়ে নিতে পারবেন।
বড়লেখা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কুতুব উদ্দিন জানান, এবার প্রায় সাড়ে চার হাজার হেক্টরে বোরো ধান আবাদ করা হয়। শতাধিক হেক্টর বন্যার পানিতে তলিয়ে গেলেও পুনরায় ভেসে উঠায় ধানের তেমন ক্ষতি হবে না বলে তিনি জানান।
তিনি বলেন, আগামী এক সপ্তাহে বৃষ্টিপাত না হলে শত ভাগ ধান ঘরে তোলার সম্ভাবনা রয়েছে।
/এসটি/








