হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচির পথসভা শেষে তাদের গাড়িবহরে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে দলটির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম আহত হয়েছেন। একইসঙ্গে এনসিপির অন্তত ১০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিকালে শহরের সাইফুর রহমান টাউন হলের সামনে অনুষ্ঠিত ‘জুলাই জাগরণ’ পথসভা শেষে নেতাকর্মীরা সার্কিট হাউসের দিকে যাওয়ার সময় এ হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় এনসিপির বহরের একটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। কর্মসূচিটি গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সীমান্ত সুরক্ষার মাধ্যমে দেশ পুনর্গঠনের দাবিতে আয়োজন করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন, বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে এ হামলা চালান। এ সময় গাড়ি থেকে নামিয়ে এনসিপির নেতাকর্মীদের পেটানো হয়। এতে কয়েকজন গুরুতর আহত ও রক্তাক্ত হন। তাদের রক্ষা করতে গিয়ে হামলার মুখে পড়ে সারজিস ও নাসীরুদ্দীন আহত হন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকালে শহরের সাইফুর রহমান টাউন হলের সামনে অনুষ্ঠিত ‘জুলাই জাগরণ’ পথসভায় বক্তব্য দেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। তারা তাদের বক্তব্যে বর্তমান সরকার ও বিএনপির বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেন। পথসভা শেষে জেলা শহরের সার্কিট হাউস এলাকায় গেলে তাদের গাড়িবহরে হামলা-ভাঙচুর শুরু করেন বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এ সময় গাড়ি থেকে নামিয়ে কয়েকজন নেতাকর্মীকে মারধর করা হয়। তাদের রক্ষা করতে গেলে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সারজিস আলমের ওপরও হামলা করা হয়। এতে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আহত হন। সারজিস আলমের হাত কেটে যায়। পরে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সারজিস আলমকে উদ্ধার করে নিরাপদে নিয়ে যান নেতাকর্মীরা। পাশাপাশি আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এনসিপির নেতাকর্মীদের ভাষ্যমতে, পুলিশের উপস্থিতিতে এ হামলা চালিয়েছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। একপর্যায়ে এনসিপির মিডিয়া টিমের বহনকারী একটি মাইক্রোবাস হবিগঞ্জ জেলা সার্কিট হাউসের ভেতরে প্রবেশ করলে হামলাকারীরা রাষ্ট্রীয় ওই প্রতিষ্ঠানের ভেতরে ঢুকে অতর্কিত হামলা চালান। মাইক্রোবাসটি ভাঙচুর করার পাশাপাশি সাংবাদিকদের মোবাইল ও ক্যামেরা ছিনিয়ে নিয়ে যান তারা।
এ বিষয়ে এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব সালেহ উদ্দিন সিফাত বলেন, ‘হবিগঞ্জে জুলাই পদযাত্রায় মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের গাড়িবহরে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা অতর্কিত হামলা চালান। এ সময় সাংবাদিক ও এনসিপি নেতাকর্মীরা আহত হন। হামলায় সারজিস আলম ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আহত হয়েছেন। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এনসিপির মিডিয়া টিমের একটি মাইক্রোবাস সার্কিট হাউসের ভেতরে নিয়ে ভাঙচুর করা হয় এবং গাড়িতে থাকা মোবাইল ফোন ও ক্যামেরাও ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।’
এ নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী লিখেছেন, ‘হবিগঞ্জে জুলাই পদযাত্রা কর্মসূচি সফলভাবে শেষ করে আমরা যখন পরবর্তী নির্ধারিত কর্মসূচির উদ্দেশ্যে মৌলভীবাজারের দিকে রওনা হই, ঠিক সেই সময় হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের একদল সন্ত্রাসী হকিস্টিক, রামদা, চেইনসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাদের ওপর পরিকল্পিত ও অতর্কিত হামলা চালায়। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, হামলার সময় ঘটনাস্থলে পুলিশ ও র্যাব উপস্থিত থাকলেও তারা কার্যত নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে। হামলাকারীরা আমাদের মিডিয়া টিমের ক্যামেরাসহ মূল্যবান সরঞ্জাম ছিনিয়ে নিয়ে যায় এবং গাড়িচালক থেকে শুরু করে আমাদের মিডিয়া টিমের সদস্যদের ওপর নির্বিচারে হামলা চালায়।’
তিনি আরও লিখেছেন, ‘এ সময় উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের ওপরও হামলা করা হয়। হবিগঞ্জের স্থানীয় নেতাকর্মীদের ওপর নির্মমভাবে আঘাত করা হয়। কারও হাত ভেঙে দেওয়া হয়েছে, কারও পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। অনেকেই রক্তাক্ত অবস্থায় সড়কে লুটিয়ে পড়ে আছে। আমরা এই ন্যক্কারজনক, বর্বরোচিত ও কাপুরুষোচিত হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে মোকাবিলা করতে যারা অস্ত্র, সন্ত্রাস ও সহিংসতার পথ বেছে নেয়, তারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। এই হামলার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক হামলাকারী, তাদের মদতদাতা এবং দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ সংশ্লিষ্টদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে জবাবদিহির মুখোমুখি করতে হবে।’
এ ব্যাপারে হবিগঞ্জ জেলা যুবদলের আহ্বায়ক জালাল আহমেদ বলেন, ‘এনসিপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলার বিষয়টি শুনেছি, সামাজিক যোগাযোগেমাধ্যমে দেখেছি, তবে এর সঙ্গে ছাত্রদল-যুবদলের কেউ জড়িত নয়।’

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী-সারজিস আলমের গাড়িবহরে হামলা






