হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলায় এক প্রতিবন্ধীর স্ত্রীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে জামায়াতের এক সাবেক নেতার বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ভুক্তভোগী ওই নারী বাদী হয়ে হবিগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা করেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. আব্দুল হাই বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘বিয়ের প্রলোভনে ওই নারীকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়েছে। আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে সিআইডিকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।’
অভিযুক্ত নূরুল ইসলাম সাজল চুনারুঘাট উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা। তিনি ইউনিয়ন জামায়াতের সাবেক সভাপতি এবং জারুলিয়া বাজারের সাজল মেডিসিন কর্নারের স্বত্বাধিকারী।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী নারী এবং অভিযুক্ত নূরুল ইসলাম সাজল একই এলাকার বাসিন্দা। ওই নারী তার স্বামী ও সন্তানের জন্য ওষুধ কিনতে অভিযুক্তের ফার্মেসিতে যেতেন। সেই সুবাদে নূরুল ইসলাম ওই নারীকে বিভিন্ন সময় কুপ্রস্তাব দিতেন। বিষয়টি বাড়ির মুরব্বিদের জানালে নূরুল ইসলামকে তারা বারণ করেন। তারপরও তিনি ওই নারীকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, ৫ আগস্ট রাত ১২টার দিকে বিদ্যুৎ না থাকায় ভুক্তভোগী ঘরের জানালা খুলে ঘুমিয়ে পড়েন। এ সময় কৌশলে জানালা দিয়ে প্রবেশ করে তাকে ধর্ষণ করেন নূরুল ইসলাম। এ সময় ওই নারীর চিৎকারে বাড়ি ও আশপাশের লোকজন হাতেনাতে ধরে ফেলেন। পরে অভিযুক্ত ব্যক্তি মোবাইলে মিজান মিয়া নামে একজনকে কল দিলে তিনি অজ্ঞাত আরও ৮-১০ জনকে সঙ্গে নিয়ে নূরুলকে ছিনিয়ে নিয়ে যান।
মামলায় আরও বলা হয়, বিষয়টি জানাজানির পর বিভিন্ন পত্রিকাসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে সময় নূরুল ও তার সহযোগী মিজান ভুক্তভোগীর পরিবারকে বিচার সালিশ কিংবা মামলা মোকদ্দমা না করতে ভয়ভীতি ও চাপ প্রয়োগ করতে থাকেন।
এ বিষয়ে চুনারুঘাট উপজেলা জামায়াতের আমির ইদ্রিস আলী বলেন, ‘অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় ৬ আগস্ট চুনারুঘাট উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর এক জরুরি সাংগঠনিক সভায় নূরুল ইসলাম সাজলকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।’









