আগামী জুনে সংসদের বাজেট অধিবেশনে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মানদণ্ড নির্ধারণে প্রস্তাবিত অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল আইন চূড়ান্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। তিনি বলেন, এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সুষ্ঠু প্রতিযোগিতার পাশাপাশি মানসম্মত পাঠদান নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। শুক্রবার বিকেলে জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীভুক্ত স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ৬৭ টি কলেজকে ২০১৫ এর র্যাকিং সেরা অ্যাওয়ার্ড ও সনদ প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এই তথ্য জানান।
কলেজ র্যাংকিং প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, হাজার মাইল হাঁটতে হলে প্রথম পদক্ষেপটি গুরুত্বপূর্ণ। র্যাংকিং হলো হাজার মাইল পাড়ি দেওয়ার প্রথম পদক্ষেপ। যারা আজকে সেরা হয়েছ, তারা নিজেদের ছাড়িয়ে যাবে। যারা পেছনে পড়ে আছে, তারা নিজেদের প্রমাণ করে সামনের সারিতে স্থান করে নেবে। যে সব প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়নি তারা আগামীতে আরও বৃহৎ পরিসরে র্যাংকিং প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখতে সহায়তা করবে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশে মানসম্পন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অভাব রয়েছে। মানসম্মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অভাব সারাবিশ্বে আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আরও মানসম্পন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হবে। সংখ্যার দিক থেকে এগুলোও এখন আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ।
শিক্ষার মান যা হওয়ার কথা আমরা তা অর্জন করতে পারিনি। বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। সে জন্য শিক্ষার্থীদের আধুনিক, উন্নত প্রযুক্তি জ্ঞানে শিক্ষিত ও দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে।
তথ্য, প্রযুক্তি ও উন্নত জ্ঞানে শিক্ষিত, দক্ষ জাতি গড়ে তোলার পাশাপাশি নৈতিক মুল্যবোধ, দেশপ্রেমিক, মানবিক মানুষ তৈরি করার জন্য শিক্ষকদের আহ্বান জানান শিক্ষামন্ত্রী। এ সময় তিনি আমেরিকার ফেডারেল ব্যাংক থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের টাকা হ্যাকড হওয়ার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। এবং সাইফুর'স-এর হ্যাকিং শেখার বিজ্ঞাপনের তীব্র সমালোচনা করেন।
নারায়ণগঞ্জে শিক্ষক লাঞ্ছনার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষকের অপমান, অপদস্ত, লাঞ্ছিত করা কোনওভাবেই বরদাশত করা হবে না। দোষ-ত্রুটির জন্য আইন আছে। আইন অনুযায়ী শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
কুষ্টিয়ার এক শিক্ষক একজন শিক্ষিকাকে ধর্ষণ করেছেন এবং তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষক জাতিকে কলঙ্কিত করতে কু-শিক্ষক ঢুকে পড়েছেন। তাদের কোনওভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. হারুন-অর-রশিদের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুল মান্নান।
অনুষ্ঠানে র্যাংকিংয়ে সেরা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সনদ এবং বই পুরস্কার প্রদান করা হয়। সেরা প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নিজ নিজ কলেজের পক্ষে আমন্ত্রিত অতিথিদের থেকে পুরস্কার সনদ গ্রহণ করেন।
এ সময় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মীযানুর রহমান, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ওহিদুজ্জামানসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে ১৪ মে প্রথমবারের মতো জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীভুক্ত কলেজগুলোর মধ্যে র্যাংকিং ঘোষণা করা হয়। এতে দেখা যায় সেরা পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে তিনটি কলেজেই রাজধানী ঢাকায় অবস্থিত।
জাতীয় পর্যায়ে ৫ টি সেরা কলেজ হলো: (১) রাজশাহী কলেজ, (২) ইডেন মহিলা কলেজ, (৩) ঢাকা কলেজ, (৪) ঢাকা কমার্স কলেজ, (বেসরকারি), (৫) সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজ।
এর মধ্যে সেরা সরকারি কলেজের গৌরব অর্জন করেছে রাজশাহী কলেজ, সেরা মহিলা কলেজ—ইডেন কলেজ, সেরা বেসরকারি কলেজ—ঢাকা কমার্স কলেজ।
এছাড়া, আঞ্চলিক পর্যায়ের সেরা প্রতিষ্ঠানসহ মোট ৬৭টি কলেজকে পুরস্কৃত করা হয়।
উল্লেখ্য, ৩১ টি সূচকের ভিত্তিতে ৬৮৫টি অনার্স ও মাস্টার্স কলেজের মধ্যে থেকে ৬৭টি সেরা কলেজকে স্কোরের ভিত্তিতে নির্বাচিত করা হয়েছে।
আরও পড়তে পারেন: সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে শেষ সময়ে তৎপর ইসি
/আরএআর/এমএনএইচ/








