সারাদেশের স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবিরোধী সচেতনতা সৃষ্টিতে নানা আয়োজন করা হলেও বাদ পড়েছে কওমি মাদ্রাসাগুলো। সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বৈঠক করলেও সেখানে ছিলেন না কওমি মাদ্রাসার কেউ।
৩ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবিরোধী সভা আয়োজন করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কওমি মাদ্রাসাগুলো শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতার বাইরে থাকায় এই নির্দেশনাও যায়নি সেখানে। যদিও কওমি মাদ্রাসা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মাদ্রাসায়ও জঙ্গিবাদবিরোধী সচেতনতা সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া নৈতিক দায়িত্ব ছিল সরকারের।
এদিকে মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, কওমি মাদ্রাসা সরকারের তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান নয় বলে ফলে তাদেরকে নিয়ে কোনও কর্মসূচির চিন্তাভাবনা মন্ত্রণালয়ের নেই।
সম্প্রতি জঙ্গিবাদের সঙ্গে অল্প বয়সী শিক্ষার্থীদের জড়িয়ে পড়ার ঘটনায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে নানামুখি কর্মসূচি পালনের উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ গত জুলাইয়ে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধানদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছেন। যোগ দিয়েছেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর জঙ্গিবাদবিরোধী কর্মসূচিতে। মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের তথ্য সরবরাহ করতে। এতো সব আয়োজনের কোনও কিছুরই ছোঁয়া লাগেনি কওমি মাদ্রাসায়।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার এক আদেশে শিক্ষা মন্ত্রণালয় আগামী ৩ সেপ্টেম্বর সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবিরোধী সভা আয়োজনের নির্দেশ দিয়েছে। এই সভায় সচেতনতা সৃষ্টি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতির বিষয়ে আলোচনা করতে বলা হয়েছে।
এ সভায় শিক্ষক ও অভিভাবকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতেও বলা হয়েছে। কওমি মাদ্রাসাগুলো শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতার বাহিরে থাকায় এই নির্দেশনাও যায়নি সেখানে।
কওমি মাদ্রাসা সূত্রে জানা গেছে, দেশের অনেক কওমি মাদ্রাসার পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন সরকার দলীয় স্থানীয় নেতারা। এসব মাদ্রাসায় ছোট পরিসরে হচ্ছে জঙ্গিবাদবিরোধী সচেতনতা সৃষ্টির কার্যক্রম।
দেশে ১ হাজার ৫০০টি মাদ্রাসা রয়েছে আঞ্চলিক মাদ্রাসা বোর্ড গওহরডাঙ্গা মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে। এই বোর্ডের মহাসচিব মুফতি রুহুল আমিন বলেন,বোর্ডের গত সভায় সিদ্ধান্ত নিয়ে মাদ্রাসাগুলোতে জঙ্গিবাদ বিরোধী সচেতনতা সৃষ্টির উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে। তবে সরকারিভাবে কোনও নির্দেশনা আসেনি। এসব কর্মকাণ্ডে সরকার যদি কোনও সহায়তা করে, তাতে আমাদের আপত্তি নেই।
শোলাকিয়া ঈদগাহের ইমাম মাওলানা ফরিদউদ্দীন মাসউদ বলেন, জঙ্গিবাদ জাতীয় সমস্যা। এর বিরুদ্ধে সকলের সচেতনতা থাকা জরুরি।
কোনওভাবেই আমাদের সন্তানরা যেন এই কার্যক্রমে জড়িয়ে না পড়ে। এজন্য সরকারের উচিত ভালোভাবে জঙ্গিবাদবিরোধী সচেতনতা সৃষ্টির কার্যক্রম হাতে নেওয়া। মাদ্রসাগুলো শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে না হলেও সরকারের উচিত মাদ্রাসায়ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া।
দেশের বৃহৎ কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ (বেফাক)। প্রায় ৬ হাজার মাদ্রাসা রয়েছে এই বোর্ডের অধীনে। বেফাকের মহাসচিব আব্দুল জব্বার জাহানাবাদী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, কওমি মাদ্রাসার ছাত্ররা জঙ্গিবাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয় না। এরপরও বোর্ড থেকে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছে জঙ্গিবিরোধী সচতেনতা সৃষ্টি ও ছাত্রদের দিকে নজর রাখতে। এ নিয়ে প্রতি সপ্তাহে ছাত্রদের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করতে।
সরকারের উদ্যোগ প্রসঙ্গে আব্দুল জব্বার বলেন, মাদ্রাসায়ও জঙ্গিবাদবিরোধী সচেতনতা সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া সরকারের নৈতিক দায়িত্ব ছিল। সরকার এমন উদ্যোগ মাদ্রাসায় নিলে আমাদের আপত্তি থাকতো না।
এ বিষয়ে জানতে একাধিকবার চেষ্টা করেও শিক্ষা সচিবের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা সাইফুল্লাহ বলেন, কওমি মাদ্রাসা সরকারের তালিকাভুক্ত কোনও প্রতিষ্ঠান নয়। তারা একদমই আলাদা ঘরানার। ফলে তাদেরকে নিয়ে কোনও কর্মসূচির চিন্তাভাবনা মন্ত্রণালয়ের নেই।
/সিএ/এমএসএম/এইচকে/
ছবি: সংগ্রহআরও পড়ুন: হাসনাত-তাহমিদের মূল ছবি দিতে প্রথম আলো ও যুগান্তরকে নির্দেশ








