গতানুগতিক শিক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে আধুনিক যুগের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। তিনি বলেন, ‘উন্নতি করতে হলে শিক্ষার আমূল পরিবর্তন দরকার। মৌলিক ও গুণগত পরিবর্তন আনতে হবে।’ বুধবার সকালে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে ‘জঙ্গিবাদবিরোধী জাতীয় শিক্ষা কনভেনশন- ২০১৬’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘জঙ্গিবাদ থেকে শিক্ষার্থীদের দূরে রাখতে হলে গতানুগতিক পদ্ধতিকে পরিবর্তন করতে হবে। শিক্ষায় মৌলিক পরিবর্তন আনতে হবে। এর সঙ্গে দেশের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, মানসিক সব কিছুর মধ্যে পরিবর্তন আনতে হবে। মনে রাখতে হবে, শিক্ষার মূল লক্ষ্য হচ্ছে জাতীয় লক্ষ্যের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ মৌলিক পরিবর্তন করা। আর এ পরিবর্তন করতে হলে শুধু আমাদেরই এগিয়ে এলে হবে না। সবাইকে এককাতারে এসে কাজ করতে হবে।’
শিক্ষকদের উদ্দেশে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমাদের এই পরিবর্তনের আসল শক্তি শিক্ষকরা। শিক্ষকরাই পারেন তার প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সঠিক শিক্ষা দিতে। শিক্ষক যদি প্রকৃত শিক্ষাবান্ধব হন, প্রকৃত ছাত্রবান্ধব হন, প্রকৃত শিক্ষকবান্ধন হন, তাহলে তার কাজ হবে তার শিক্ষা দিয়ে নতুন প্রজন্মকে সঠিকভাবে আধুনিক বাংলাদেশের নির্মাতা হিসেবে গড়া তুলবেন।
এর আগে কনভেনশনটিতে দেশের ২৩ টি শিক্ষা সংগঠনের শিক্ষক নেতারা অংশ নেন। ২৩ টি শিক্ষা সংগঠনের মধ্যে একটি সংগঠনের একজন শিক্ষক শিক্ষানীতি বিষয়ে বলেন, ‘জাতীয় শিক্ষানীতি বাস্তবায়িত হচ্ছে না বলেই জঙ্গিবাদের উত্থান হচ্ছে।’ তিনি দ্রুত শিক্ষানীতি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। ওই শিক্ষকের এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আপনি কিভাবে বলেন জাতীয় শিক্ষানীতি বাস্তবায়িত হচ্ছে না? ২০১০ সালে শিক্ষানীতি চূড়ান্ত হয়েছে। ২০১১ সালেই কি বাস্তবায়িত হয়ে যাবে? আমার মনে হয় আপনি শিক্ষানীতি পড়েননি। আপনাকে দাওয়াত দিলাম, এসে শিক্ষানীতির চেহারাটা অন্তত দেখিয়ে দেব। এমন দায়িত্বহীন কথা কাউকে না বলার জন্য শিক্ষামন্ত্রী অনুরোধ করেন।’
কনভেনশনে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দীন আহমেদ। সঞ্চালনা করেন ফেডারেশনের মহাসচিব অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান এ কে আজাদ চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকী প্রমুখ।
/আরএআর/এমএনএইচ/








