যেসব কলেজ ও মাদ্রাসা থেকে এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষায় ন্যূনতম ১০ জন শিক্ষার্থী পাস করেনি, সেসব প্রতিষ্ঠানের এমপিও বাতিল হতে পারে। একই সঙ্গে একাদশ শ্রেণিতে মোট আসন সংখ্যার চেয়ে অর্ধেক বা মাত্র ২৫ শতাংশ শিক্ষার্থীও ভর্তি করাতে পারেনি সেসব কলেজ-মাদ্রাসারও এমপি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে বলে অভিমত জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। রবিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক সমন্বয় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ওই সভার আগে শিক্ষামন্ত্রী কর্মকর্তাদের কাছে এক নোটে ২৫ দফা নির্দেশনা পাঠান। এতে তিনি বিভিন্ন গুরত্বপূর্ণ বিষয় উল্লেখ করেন।
এমপিও বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রীর নোটে বলা হয়, যে সব প্রতিষ্ঠান থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের এসএসসি-এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ন্যূনতম ১০ জন, সেসব প্রতিষ্ঠানের এমপিও বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে।
এছাড়া যেসব কলেজে কাম্যশিক্ষার্থী সংখ্যার অর্ধেক বা এক চতুর্থাংশও ভর্তি করতে পারেনি, সে সব প্রতিষ্ঠানের এমপিও বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এ সব বিষয়ে তথ্য দ্রুত সংগ্রহ করতে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন শিক্ষামন্ত্রী। সভায় শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সরকারিকরণের জন্য ৫টি স্কুলের নাম চাওয়ার পর সব উপজেলায় বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। নানারকম জটিলতাও সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত এর সমাধান প্রয়োজন।’
নোটে আরও বলা হয়, ‘পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে কলেজ সম্পৃক্ত করার কাজটি অনেক চেষ্টা করেও বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না। এ ক্ষেত্রে যে সমস্যা দেখা যাচ্ছে, তা এখনই দূর করা যাচ্ছে না। এতে আরও বড় সমস্যা সৃষ্টির আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরাও।’
নোটে উল্লেখ আছে, ‘বিসিএস শিক্ষকদের শিক্ষকতায় আগ্রহ নেই। অনেকেই কেবল চাকরি রক্ষা করছেন। বেতন পাওয়ার খাতিরে কাজ করছেন। বিসিএস শিক্ষকদের দু’টি বড় লক্ষ্য—(১) ঢাকায় থাকা বা আসা (২) বড় ধরনের কোনও কর্মকর্তা হওয়া। এগুলোর নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে এই ক্যাডারের আসল উদ্দেশ্যই নষ্ট হবে। এর জন্য সহজ কোনও সমাধান বের না করতে পারলেও দিনদিন পরিস্থিতির অবনতি হবে।’
নোটে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষক প্রশিক্ষণ বিষয়ে বর্তমানে অনেক অগ্রগতি হয়েছে। কিন্তু আশানুরূপ ফল পাওয়া যাচ্ছে না। তাই প্রশিক্ষণ একটি কার্যকর পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া দরকার’।
এছাড়া ওই নোটে শিক্ষা আইন, অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল, ইউজিসি আইন, মাধ্যমিক শিক্ষার মানউন্নয়নে গৃহীত ব্যবস্থা নিয়েও উল্লেখ করা হয়।
এদিকে একই সভায় এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় অতিরিক্ত সৃজনশীল প্রশ্ন বাতিল এবং গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে নেয়ার আন্দোলনে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী।
/আরএআর/এমএনএইচ/








