ঢাবি শিক্ষককে সাময়িক বহিষ্কারাদেশের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
১০ মার্চ ২০১৭, ১৫:০০আপডেট : ১০ মার্চ ২০১৭, ১৭:৫৭

ঢাবি উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. রিয়াজুল হকের ওপর আনীত অভিযোগ, সাময়িক বহিষ্কারাদেশ এবং বিভাগীয় সব ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে মানববন্ধন হলো। শুক্রবার (১০ মার্চ) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে অনুষ্ঠিত এ মানববন্ধনে অংশ নেন একই বিভাগের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, ‘পুরোপুরি গোপনে এবং কোনও লিখিত কিংবা আনুষ্ঠানিকভাবে সতর্ক না করেই অধ্যাপক রিয়াজকে বহিষ্কারের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।’

মানববন্ধনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে বলা হয়— জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রনীত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের The Dhaka University Order, 1973 (President’s Order no 11 of 1073), Act 56, Section (3) অনুযায়ী একজন শিক্ষককে বহিষ্কার করা যেতে পারে যদি তিনি অনৈতিক কর্মকান্ডে অভিযুক্ত হয়ে প্রমাণিত কিংবা অদক্ষ হন। তাকে বহিষ্কার করতে আনীত অভিযোগ প্রমাণের জন্য তার মনোনীত একজন প্রতিনিধিসহ গঠিত তদন্ত কমিটির মাধ্যমে তা হতে হবে। কিন্তু অধ্যাপক রিয়াজের সাময়িক বহিষ্কারাদেশ প্রক্রিয়াসহ সম্প্রতি গঠিত তদন্ত কমিটিতে তার কোনও প্রতিনিধি রাখা হয়নি এবং কোনোরকম বক্তব্যও নেওয়া হয়নি।

উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের তৃতীয় ব্যাচের শিক্ষার্থী সুমাইতা ফাতেমা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘স্যারের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ পুরোপুরি ভিত্তিহীন। যে লেকচারটি নিয়ে অভিযোগ করা হয়েছে তা ইতোমধ্যে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করা হয়েছে। সেখানে জেন্ডার স্টাডিজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো ছাড়া বিতর্কিত কোনও কিছুই নেই।’

বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের উন্নয়ন বিভাগের শিক্ষার্থী আসিফ এম সালেহীন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘১১ বছর ধরে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিষয়টি পড়াচ্ছেন স্যার। এত বছর পরে তার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ ভিত্তিহীন।’

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সিন্ডিকেট সভায় ক্লাসরুমে অপ্রাসঙ্গিক ও অশালীন ছবি প্রদর্শনের অভিযোগে সাময়িকভাবে বহিষ্কৃত হন বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. রিয়াজুল হক।

মানববন্ধনে দেওয়া বিবৃতিতে আরও বলা হয়— প্রায় এক দশক ধরে জেন্ডার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কোর্সটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের অনেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াচ্ছেন অধ্যাপক রিয়াজ। ২০১৬ সালের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের জন্য এক বিশেষায়িত সান্ধ্যকালীন মাস্টার্স প্রোগ্রামে সবশেষ এ কোর্সে ক্লাস নেন তিনি। যাদের সব ক্লাস, অ্যাসাইনমেন্ট, পরীক্ষা ও ফলাফল গত ডিসেম্বরেই সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু কোর্স চলাকালীন তার বিরুদ্ধে কোনও আনুষ্ঠানিক অভিযোগের কথা জানানো হয়নি বলেও উল্লেখ করা হয় বিবৃতিতে।

জানা গেছে, অধ্যাপক রিয়াজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগ থেকে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর উভয় পর্যায়েই প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জন করেছিলেন। অস্ট্রেলিয়ার ফিল্ডার্স ইউনিভার্সিটি থেকে উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজের ওপর পিএইচডি এবং ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজে মাস্টার্স করেছেন নেদারল্যান্ডসের আইএসএস থেকে।

/আরএন/এমও/জেএইচ/

 

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম