ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের শিক্ষক ফারহান উদ্দিনকে জোর পূর্বক অব্যাহতি দেওয়া ও লাঞ্ছিত করার ঘটনার অভিযোগে গঠিত তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন পেশ করেছে। প্রতিবেদনে রেজিস্ট্রার অবৈধভাবে জোর খাটিয়েছেন উল্লেখ করে তাকে অব্যাহতির সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি। বুধবার (৯ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
তদন্ত কমিটি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে দু’টি সুপারিশ দিয়েছে। প্রথম সুপারিশে বলা হয়েছে, রেজিস্ট্রার কোনও ব্যক্তিকে ইচ্ছার বিরুদ্ধে আটক করে রাখার আইনগত অধিকার রাখেন না। শিক্ষক ফারহানের ক্ষেত্রে তা করে তিনি অবৈধ জোর খাটিয়েছেন। এ কারণে তার পদত্যাগের সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি। সুপারিশে বলা হয়েছে, ‘যেহেতু রেজিস্ট্রার নিজে অথবা অন্য ব্যক্তিবর্গকে আদেশ প্রদানের মাধ্যমে ফারহান উদ্দিনকে অবৈধভাবে আটকে রাখার আইনগত অধিকার রাখেন না, সেহেতু আমরা তার পদত্যাগের সুপারিশ করছি। এক্ষেত্রে তিনি অপারগ হলে তাকে আইন অনুসরণপূর্বক অব্যাহতি প্রদান করা উচিত হবে।’
দ্বিতীয় সুপারিশে বলা হয়েছে, শিক্ষক ফারহান উদ্দিন আহমেদের অব্যাহতি/স্থায়ীকরণ সংক্রান্ত বিষয়াদির সমাধান তার একাডেমিক গবেষণা, শিক্ষকতা-মূল্যায়ন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি দায়িত্ব পালন, সামাজিক দায়িত্ব পালন এবং আত্মবিকাশের ওপর ভিত্তি করে হওয়া প্রয়োজন। তার নিয়োগপত্রের ৭ নম্বর অনুচ্ছেদ প্রয়োগ করে এবং প্রফেশনাল ডেভেলাপমেন্ট সেন্টার (ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির অধীন)-এর মূল্যায়নের ওপর ভিত্তি করে তাকে অব্যাহতি দেওয়া যাবে না।
এই দু’টি সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, তদন্ত কমিটির দেওয়া প্রধান সুপারিশ দু’টি বাস্তবায়নে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যত দ্রুত সম্ভব পদক্ষেপ নেবে।
এ বিষয়ে কথা বলতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সৈয়দ সাদ আন্দালিবকে ফোন করা হলে তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, গত ৩০ জুলাই ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ফারহান উদ্দিনকে তার চাকরি থেকে জোরপূর্বক অব্যাহতিপত্র দেন রেজিস্ট্রার। ফারহান নিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে লাঞ্ছিত করা হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন। পরে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামলে ৫দিনের মাথায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ রেজিস্ট্রারকে দীর্ঘ ছুটিতে পাঠায়। এছাড়া দুই কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। একইসঙ্গে শিক্ষক ফারহানকেও চাকরিতে পুনর্বহাল করা হয়। ঘটনাটির তদন্ত করতে একটি কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
ওই কমিটিতে রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এফ এম ইউসূফ হায়দার ও অধ্যাপক ড. সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক আফসান চৌধুরী, একই বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন প্রেসিডেন্ট তাজদিন হাসান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র প্রতিনিধি মাইমুনা সৈয়দ আহমেদ।
/আরএআর/এমএনএইচ/








