ছাত্র সংসদ নির্বাচন না হওয়ার কারণে দেশে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে চরম অগণতান্ত্রিক পরিবেশ বিরাজ করছে বলে দাবি কেন্দ্রীয় প্রগতিশীল ছাত্রজোটের। শুক্রবার (১১ আগস্ট) বিকাল ৪টায় রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে অনুষ্ঠিত এক সংহতি সমাবেশে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা সমবেত হয়ে এ নিয়ে কথা বলেন। তাদের ভাষ্য, ‘শিক্ষার্থীদের ওপর নিপীড়ন রোধ ও গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ে ছাত্র সংসদই মূল শক্তি। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক সমিতির নির্বাচন, উপাচার্য নির্বাচন, ডিন নির্বাচন সবই হচ্ছে, হচ্ছে না শুধু ছাত্র সংসদ নির্বাচন।’
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কার্যকর ছাত্র সংসদ থাকলে শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণের চলমান উৎসব এত অবাধে চলতে পারতো না বলে মনে করে প্রগতিশীল ছাত্রজোট। এর নেতাদের ভাষ্য, ‘দলীয় ও অগণতান্ত্রিক উপাচার্য নির্বাচনও তখন সম্ভব হতো না। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বিভিন্ন সময়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। তাদের একটি ঐতিহাসিক ভূমিকা আছে। বেশিরভাগ শিক্ষক দালাল হয়ে গেলেও এখনও কিছু নৈতিক ও মানবিক শিক্ষক আছেন,যারা ছাত্রদের ন্যায্য আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা জানান।’
সমাবেশে বক্তারা বলেন, ‘পুলিশের টিয়ারশেলের আঘাতে সিদ্দিকুরের চোখের আলো হারিয়ে গেলো। অথচ পুলিশের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হলো না। উল্টো শিক্ষার্থীদের নামেই দায়ের হলো মামলা। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরকার ও প্রশাসনের আচরণ চূড়ান্তভাবে অগণতান্ত্রিক। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ছাত্র সংসদ অকার্যকর করে রাখা হয়েছে। এ কারণে ছাত্ররা তাদের ন্যায্য অধিকারের কথা বলতে পারছে না।’
সংহতি সমাবেশে বেশ কয়েকটি মামলা দ্রুত প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। এর মধ্যে রয়েছে— ২০১৪ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ফি-বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া প্রগতিশীল ছাত্রজোটের নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৬ জন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মামলা, ভাস্কর্য পুনঃস্থাপনের দাবিতে আন্দোলনরত জোট নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে মামলা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত সাতটি কলেজের আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে অজ্ঞাতনামা ১ হাজার ২০০ জনের নামে পুলিশের দায়ের করা মামলা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে সান্ধ্যকালীন কোর্স খোলার পরিকল্পনার প্রতিবাদকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শুক্রবার সংহতি প্রকাশ করেন জোটের নেতারা।
মামলা প্রসঙ্গে বক্তারা বলেছেন, ‘আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের বিরুদ্ধে মামলা হতো সরকারিভাবে,এখন মামলা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ক্যাম্পাসগুলোতে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নেই। এজন্যই দেশে এত অরাজকতা। ছাত্র সংসদ নির্বাচনের ব্যাপারে উপাচার্য ও ক্ষমতাসীনদের স্পষ্ট বক্তব্য চাই। ছাত্র সংসদ নির্বাচন দিতে না চাইলে আমরা আন্দোলনের মাধ্যমে ন্যায্য অধিকার আদায় করবো।’
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন প্রগতিশীল ছাত্রজোটের সমন্বয়ক ইমরান হাবিব রুমন,ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক লিটন নন্দী, ছাত্র ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি গোলাম মোস্তফা, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের (বাসদ-মার্কসবাদী) ভারপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় সভাপতি মাসুদ রানা, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর যুগ্ম আহ্বায়ক ইকবাল কবীর, ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সহকারী সাধারণ সম্পাদক তুহিন কান্তি দাস, ছাত্র ঐক্য ফোরামের যুগ্ম আহ্বায়ক সরকার আমিন, সংগঠক আকরামুল হক, রাকসুর সাবেক সহ-সভাপতি রাগীব আহসান মুন্না, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের নেতা জহিরুল ইসলাম, সাবেক ছাত্রনেতা খালেকুজ্জামান রিপন ও উদীচীর নেতা আরিফ নূর। সঞ্চালনা করেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের (বাসদ) কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন প্রিন্স।
/জেএইচ/
আরও পড়ুন-
ডাকসুসহ সব ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবিতে প্রগতিশীল ছাত্রজোটের কর্মসূচি ঘোষণা








